মজার রান্না ডেস্ক: চলছে ইলিশ মৌসুম। এখন নিশ্চই বাজারে ঢুঁ মারবেন ইলিশ কিনতে। তবে বাজার থেকে প্রকৃত ইলিশ কিনেই যেন ঘরে ফিরতে পারেন তার জন্য হতে হবে একটু সাবধান ও সচেতন। কারণ এখন রাজধানীর বাজার ছেয়ে গেছে নকল ইলিশে। মাছ ব্যবসায়ীরা ইলিশ বলে আপনাকে গছিয়ে দিতে পারে সার্ডিন কিংবা চৌক্কা মাছ। যা দেখতে অনেকটা ইলিশের মতোই। তাই সাবধান ইলিশের নামে অন্য কিছু কিনে আনছেন কিনা- যাচাই করুন।বাজারে নকল ইলিশ বলে এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ‘সার্ডিন’।

ঠিক ইলিশের মতই দেখতে মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম সার্ডিন (sardine, সামুদ্রিক পোনা মাছ বিশেষ)। এক সময় মেডিটারেনিয়ান দ্বীপ সার্ডিনিয়া’র চতুর্দিকে এ মাছের আধিক্য ছিল বলে এরা সার্ডিন নামে পরিচিতি পেয়েছেন। স্থানীয় জেলেদের কাছে পরিচিতি চন্দনা, যাত্রিক, টাকিয়া, পানসা, খায়রা ও সাগর চাপিলা নামে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা সার্ডিন বা চন্দনা মাছকে ইলিশ বলেই বিক্রি করছে। এ মাছ বেশিরভাগ সাগরপথে আমদানি করা হয়। তাই ফরমালিনযুক্ত এ মাছ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তরা।এখন দেখে নেওয়া যাক সার্ডিন ও প্রকৃত ইলিশের মধ্যে ব্যবধান এবং চেনার উপায়। সার্ডিনের দেহ পার্শ্বীয়ভাবে পুরু এবং পীঠের দিকের চেয়ে পেটের দিক অপেক্ষাকৃত উত্তল ও চ্যাপ্টা। ইলিশের দেহ পার্শ্বীয়ভাবে পুরু, পিঠের ও পেটের দিক প্রায় সমভাবে উত্তল।

সার্ডিনের দৈর্ঘ্য সাত সেন্টিমিটার থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ইলিশ বেশ বড় (৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত) হয়ে থাকে। সার্ডিনের মাথার আকৃতি ছোট ও অগ্রভাগ ভোঁতা। ইলিশের মাথার আকৃতি লম্বাটে ও অগ্রভাগ সূচালো। সার্ডিনের পৃষ্ঠীয় পাখনার অগ্রভাগে এবং পুচ্ছ পাখনার কিনারা ঘোলাটে। ইলিশের পৃষ্ঠীয় পাখনার অগ্রভাগে এবং পুচ্ছ পাখনার কিনারা অনেকটা ফ্যাকাশে। সার্ডিনের চোখের আকৃতি তুলনামূলকভাবে বড়। আসল ইলিশের চোখের আকৃতি তুলনামূলকভাবে ছোট।সার্ডিন মাছটি দেখতে ইলিশের মতো। 

অনেক ব্যবসায়ী টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, উখিয়া ও কক্সবাজার উপকূল থেকে এই মাছ কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন। রাজধানীর অন্যতম প্রধান বাজার কারওয়ান বাজারেও দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এই সার্ডিন মাছ।ইলিশের মতো দেখতে আরেক মাছ হচ্ছে চৌক্কা। জেলেদের ভাষায় সার্ডিনকে টাকিয়া এবং চৌক্কাকে চৌক্কা ফ্যাইসা বা চটপটিও বলা হয়।  সাগরে সারা বছরই কম-বেশি সার্ডিন ও চৌক্কা ধরা পড়ে। এখন বিদেশ থেকেও আমদানি হয় এসব মাছ। আমদানি করা নকল ইলিশে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান থাকে বলে সম্প্রতি ধরা পড়েছে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণে। সংস্থাটি বলছে, এসব মাছে উচ্চমাত্রায় ক্ষতিকর ক্যাডমিয়াম ও সিসা পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এক চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা সব মাছ বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সূত্র: একুশে টিভি