মজার রান্না ডেস্ক: মাইক্রোওয়েভ বর্তমান সময়ে অনেক প্রয়োজনীয় একটি সামগ্রী হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরজীবনে গ্যাস ও সময় বাঁচাতে কিংবা থালাবাসন পরিষ্কারের ঝামেলা এড়াতে আজকাল মাইক্রোওয়েভ আছে অনেকেরই পছন্দের শীর্ষে। খাবার গরম করা তো বটেই, বেকিং থেকে শুরু করে রান্না করা পর্যন্ত অসংখ্য কাজে মাইক্রোওয়েভ হয়ে উঠেছে নিত্যদিনের সঙ্গী।কিন্তু এসবের মাঝে কিছু জরুরী তথ্য জানেন না অনেকেই। যেমন, বেশীরভাগ ব্যবহারকারীরই জানা নেই মাইক্রোওয়েভের সঠিক ব্যবহার! মাইক্রোওয়েভে যে ৭ টি উপাদান রান্না বা গরম করার কাজে ব্যবহার একেবারেই নিষিদ্ধ, আজ সেগুলো চিনে নিই চলুন।

ফলমূল–যে কোনো ফলই মাইক্রোওয়েভে দিলে সেটা স্বাদ-গন্ধ-পুষ্টি হারিয়ে ফেলবে। কেবল তাই নয়, আঙ্গুর জাতীয় ফল বিস্ফোরিত হবে এবং কিসমিস-খেজুরের মতো শুকনো ফল পুড়ে গিয়ে ধোঁয়া তৈরি করবে।

অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল–সাধারণ গ্যাস বা ইলেকট্রিক ওভেনে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহার করে রান্না করা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু মাইক্রোয়েভে এই জিনিস বিপজ্জনক। ধাতব কোনো পাত্র বা জিনিস মাইক্রোওয়েভে ব্যবহার করা যায় না। কারণ ধাতু মাইক্রোওয়েভ প্রতিফলিত করে। ফলে খাবার তো গরম হবেই না, উল্টো আগুন লাগার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যায়।

প্লাস্টিকের পণ্য–দামে খুব সস্তা বলে দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশে। জেনে রাখুন, মাইক্রোওয়েভে প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকিস্বরূপ। এমনকি তাতে “মাইক্রোয়েভ সেফ” লেখা থাকলেও। প্লাস্টিক গরম হয়ে গেলে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান খাবারে মিশে যায় ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে।

ডিম–মাইক্রোওয়েভে ডিম সেদ্ধ করতে যাওয়াটা হবে বোকামি। কারণ ডিমটি গরম হয়ে মাইক্রোওয়েভে বিস্ফোরিত হবে। যদি একান্তই ডিম সেদ্ধ করতে হয়, তাহলে ডিমের অপেক্ষাকৃত সরু অংশে ফুটো করুন, তারপর পানির মাঝে ডুবিয়ে মাইক্রোওয়েভে দিন। ফুটো ঠিকমতো না হলে কিন্তু ডিমের মাঝে বাষ্প বের হতে পারবে না। এতে ডিমটি বিস্ফোরিত হবে।

হিমায়িত মাছ, মাংস–তাড়াতাড়ি রান্না করার জন্য হিমায়িত মাছ, মাংস মশলা মেখে মাইক্রোয়েভে দিয়ে দেন অনেকে। এই কাজটি করাও উচিত না। মাছ, মাংস একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রান্না করতে হয়, তা না হলে রোগ-জীবাণু থাকার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। হিমায়িত অবস্থায় মাছ, মাংস মাইক্রোওয়েভে দিলে ভেতর পর্যন্ত সেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছায় না। ফলে রয়ে যায় স্বাস্থ্যঝুঁকি।

পুরানো বাসন-কোসন–সাধারণত নানী-দাদী কিংবা মায়ের আমলের স্মৃতিময় কিছু তৈজসপত্র বাড়িতে থাকে। এগুলো মাইক্রোওয়েভে দিতে যাবেন না। কারণ এ সব পণ্য মাইক্রোওয়েভপ্রুফ নয়। অহেতুক ফেটে গিয়ে নষ্ট হবে শখের জিনিসটি।

কাগজের প্যাকেট, রেস্তরাঁর খাবারের বাক্স–এগুলো তৈরি হয় অত্যন্ত নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে, মাত্র একবার ব্যবহারের জন্য। কাগজের ব্যাগ বা রেস্তরাঁর নানা রকমের খাবারের বাক্স অনেকেই মাইক্রোওয়েভে সরাসরি দিয়ে থাকেন। এই কাজটিও ঠিক না। এ সব নিম্নমানের প্যাকেট বা বাক্সগুলো গরম হলেই ক্ষতিকর রাসায়নিক পণ্যে খাবারে মিশে যাবে।প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করে। সময়ও বাঁচায়। কিন্তু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে বুঝেশুনে। স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কোনো অবহেলা নয়।