মজার রান্না ডেস্ক: নুডলসের পাকোড়া, চিংড়ির পাকোড়া, মাংসের পাকোড়া, পেঁয়াজের পাকোড়া, আরো কত রকমের পাকোড়া। অনেকে আবার শাকের পাকোড়াও বানিয়ে থাকেন। তবে শাকের পাকোরা বানাবার সময় সাধারণত শুধু পুই শাকের পাকোড়াই বানানো হয়ে থাকে। আজ আমি আপনাদের সাথে একটু অন্যরকম একটা পাকোড়ার রেসিপি শেয়ার করব। এটী হচ্ছে মজাদার ও ভিন্ন স্বাদের কুমড়ো শাকের পাকোড়া। দেখে নিন রেসিপিটি। আশা করি ভালো লাগবে।

উপকরণ:

 

মিহি করে কুচি করে রাখা কুমড়ো শাক ১ কাপ

মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ ২ টেবিল চামচ

মিহি করে কুচি করে রাখা রসুন ১ চা চামচ

মিহি করে কুচি করে রাখা কাঁচা মরিচ ২ চা চামচ

আদা বাটা ১ চা চামচ

সরষে বাটা

ভাজা জিরা গুড়া ১ চা চামচ

ভাজা ধনে গুড়া ১/২ চা চামচ

কালো গোল মরিচ গুড়া ১ চা চামচ

জোয়ান গুড়া ১/২ চা চামচ

মৌরি গুড়া ১/২ চা চামচ

লবণ পরিমাণ মত

বেসন ১/৪ কাপ

চালের গুড়া ১ চা চামচ

বেকিং সোডা ১/২ চা চামচ

পানি সামান্য

সয়াবিন তেল ডুবো তেলে ভাজার জন্য

প্রণালী:
১ম ধাপ
প্রথমে কুমড়ো শাকের পাতা গুলো আলাদা করে নিতে হবে।

কুমড়ো শাকের ডাটা নেয়া যাবে না। শুধু পাতা নিতে হবে।

কুমড়ো শাকের পাতা গুলো খুব ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে।

এরপর খুব মিহি করে পাতা গুলো কুচি কুচি করে কেটে নিতে হবে।

কুমড়ো শাকের পাতা গুলো খুব মিহি করে কেটে নেয়াটা খুব জরুরী।

শাক যদি মোটা মোটা করে কাটা হয় তাহলে পাকোড়া বানাতে বেশি সময় লাগবে।

আর পাকোড়া খুব একটা মচমচে হবে না। নরম হয়ে যাবে।

২য় ধাপ
এই বার একটা বড় পাত্রে মিহি করে কুচি করে নেয়া কুমড় শাকের পাতা নিতে হবে।

এর মধ্যে একে একে মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ, মিহি কুচি রসুন আর মিহি করে কুচি করা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিতে হবে।

সেই সাথে আদা বাটা আর সরষে বাটাও দিয়ে দিতে হবে।

এরপর লবণ, ভাজা জিরা গুড়া, ভজা ধনে গুড়া আর কালো গোল মরিচ গুড়াও দিয়ে দিতে হবে।

এরপর এই কুমড়ো শাকের পাতা ও মশলার মিশ্রণের মধ্যে জোয়ান গুড়া আর মৌরি গুড়াও দিয়ে দিতে হবে।

এই বার হাত দিয়ে খুব ভাল করে এই সব কটি উপকরণ মেখে নিতে হবে।

দুই থেকে তিন মিনিট খুব ভাল ভাবে মাখাতে হবে।

দুই থেকে তিন মিনিট পর দেখবেন কুমড়ো শাকের পাতা ও অন্যান্য উপকরণ থেকে অল্প অল্প পানি বের হয়ে আসছে।

কুমড়ো শাকের পাতা ও অন্যান্য মশলার মিশ্রণ থেকে অল অল্প পানি বের হয়ে যখন এগুলো একটু নরম হয়ে আসবে তখন এর মধ্যে বেকিং সোডা ও চালের গুড়া দিতে হবে।

 

ভাল করে মেখে নিতে হবে।

আপনার কাছে যদি বেকিং সোডা না থাকে তবে আপনি বেকিং পাউডারও ব্যবহার করতে পারেন।

দুটি উপকরণই সম পরিমাণে ব্যবহার করা যায়।

এরপর অল্প অল্প করে বেসন যোগ করতে হবে।

একবারে সব বেসন যোগ করা যাবে না।

কারণ সব বেসন নাও লাগতে পারে।

অল্প অল্প করে বেসন যোগ করে মাখাতে হবে আর দেখতে হবে বাইন্ডিং ঠিক মত হচ্ছে কিনা।

পছন্দ মত বাইন্ডিং হয়ে গেলে আর বেসন যোগ করা যাবে না।

৩য় ধাপ
একটা কড়াতে সয়াবিন তেল গরম করতে দিতে হবে।

তেল গরম হপ্যে গেলে শাকের মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প করে নিতে হবে আর বল বানিয়ে তেলে ছেড়ে দিতে হবে।

দুই থেকে তিন মিনিট এক পিঠ ভাজতে হবে।

যেহেতু শাক কাঁচা তাই চুলার জ্বাল খুব বেশি বাড়ানো যাবে না।

মিডিয়াম রাখতে হবে।

তা না হলে শাকের পাকোড়ার বাইরে মচমচে হবে কিন্তু ভিতর কাঁচা থেকে যাবে।

দুই থেকে তিন মিনিট পর যখন এক পিঠ ভাজা হয়ে যাবে তখন পাকোড়া গুলো উলটে দিতে হবে।

একই ভাবে মিডীয়াম আঁচে আরো দুই থেকে তিন মিনিট কুমড়ো শাকের পাকোড়া গুলো ভেজে নিতে হবে।

তারপর একটা প্লেটে টিস্যু পেপারের উপর কুমড়ো শাকের পাকোড়া গুলো তুলে নিতে হবে।

আপনার পছন্দ মত যে কোন সস কিংবা চাটোনির সাথে সার্ভ করতে পারবেন মজাদার মচমচে আর ভিন্ন স্বাদের এই কুমড়ো শাকের পাকোড়া।

আমি নিজে অবশ্য ছোলা আর সালাদের সাথেই এই কুমড়ো শাকের পাকোড়া খেতে বেশি পছন্দ করি।

আর আপনি চাইলে কিন্তু গরম গরম সাদা ভাতের সাথেও এই কুমড়ো শাকের পাকোড়া খেয়ে দেখতে পারেন। যথেষ্ঠ টেস্টি লাগে।

সূত্র: চটপট.কম