fbpx

জেনে নিন ডিমের কুসুমের রং হলুদ হওয়া ভালো, নাকি কমলা?

মজার রান্না ডেস্ক: ডিমের কুসুমের রং বিভিন্ন রকমের হতে পারে। একদম হালকা, সাদাটে হলুদ থেকে শুরু করে কমলা, এমনকি লাল কুসুমও দেখা যায়। কিন্তু কুসুমের রং দেখে কী করে বুঝবেন ওই ডিমটি আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর কিনা?

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, কুসুমের রং যত গাড়, ডিমটা তত স্বাস্থ্যকর। ঘরোয়াভাবে পালা মুরগি যা ঘাসে চরে বেড়ায়, পোকা ও শস্য খায় তার ডিমের কুসুমের রং হয় কমলা ও এতে থাকে প্রচুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। অন্যদিকে ফার্মের মুরগী, যেগুলো আঁটসাঁট খাঁচায় থাকে ও শুধুই শস্য খায়, তাদের ডিমের কুসুম হয় হালকা হলুদ ও এতে পুষ্টি থাকে কম।

কুসুমের রংটা মূলত মুরগীর খাদ্যের ওপর নির্ভর করে। ডিমের কুসুমের রংটা কমলা হয় ক্যারোটিনয়েড নামের এক ধরণের রাসায়নিকের ওপর। মুরগীর খাবারে যত বেশি ক্যারোটিনয়েড, কুসুম ততই কমলা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার এক খামারি, জোয়েল স্লেজাক জানান, মুরগী যত বেশি চরে বেড়ানোর সুযোগ পাবে, তার ডিম ততই গাড় রঙের হবে। কিছু কিছু খামারি ক্যারোটিনয়েড আছে এমন খাবার খাওয়ান মুরগীকে, যেমন লাল ক্যাপসিকাম।

সুতরাং ডিমের রং গাড় দেখলে দুটো জিনিস আন্দাজ করে নেওয়া হয়। হয় মুরগীটি সুস্থ এবং সে চরে বেড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে, অথবা তাকে বিশেষ খাবার খাওয়ানো হচ্ছে।

যেসব খাবারে ক্যারোটিনয়েড আছে, যেমন গাড় সবুজ শাক-সবজি এবং লাল-কমলা ফল ও সবজি খাওয়ালে মুরগীর ডিমের রং গাড় হয়। ক্যারোটিনয়েড চোখের জন্য খুবই ভালো। আর ডিমের রং কমলা মানে এতে বেশি পরিমাণে ক্যারোটিনয়েড আছে।

তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, মুরগীটি সুস্থ থাকা মানে ডিমের পুষ্টি বেশি হওয়া। অনেক ফার্মে মুরগীকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের রাখা হয়, খাঁচা থেকে বের করা হয় না। কিন্তু খাবারের সাথে শৈবাল, গাঁদা ফুল ও কমলার খোসা দেওয়া হয়, এ কারণে তার ডিমের রং কমলা হতে পারে। কিন্তু চরে বেড়ানো মুরগীর ডিমের মতো পুষ্টিকর হয় না সেই ডিম। বিশেষ করে, ফার্মের মুরগীর ডিমে হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড থাকে না। এক গবেষণায় দেখা যায়, ফার্মের মুরগীর তুলনায় চরে বেড়ানো মুরগীর ডিমে দ্বিগুণ পরিমাণে ভিটামিন ই, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এবং ৩৮ শতাংশ বেশি ভিটামিন এ থাকে।

তাহলে কী ডিমের রং গাড় বলে তার পুষ্টি বেশি ধরে নেওয়া যায়? যায়, কিন্তু এর পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় দেখা উচিত। কারণ ফার্মের অসুস্থ মুরগীকেও রঙিন খাবার খাওয়ালে তার ডিমের কুসুম গাড় রঙের হতে পারে। চরে বেড়ানো মুরগীর ডিমের কিছু বৈশিষ্ট্য আপনি নিজেই পরীক্ষা করতে পারেন। যেমন চরে বেড়ানো মুরগীর কুসুমটা বেশ টেকসই হয়। ফার্মের মুরগীর কুসুমের মতো ডিম ফাটানোর সাথে সাথেই গলে যায় না। আর এর সাদা অংশটাও বেশ ঘন হয়। সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর মুরগীর ডিম খেতে চাইলে শহরের আশেপাশের গ্রাম থেকে আনা মুরগীর ডিম খেতে পারেন।

সূত্র: প্রিয়.কম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close