মজার রান্না ডেস্ক: শরীরটাকে সুস্থ আর ফিট রাখতে তেলমুক্ত খাবারের দিকে ঝুঁকছি সবাই। এর জন্য তেলের পরিবর্তে রান্নার ধরন পাল্টে স্টিম, পোচ, ভাপে সিদ্ধ কিংবা পুরোপুরি সিদ্ধর মতো ভিন্ন কিছু করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অলিভ অয়েল, সয়াবিন কিংবা অন্য যেকোনো তেলই ব্যবহার করুন না কেন, কোনেটাই শরীরের জন্য ভালো না। তেলে ফ্যাটের উপস্থিতি যতটা, সেখানে অন্যান্য পুষ্টিগুণ উপেক্ষিত।

এবার জানুন তেল ছাড়া রান্নার নানান উপায়—

তেল ছাড়া রান্নার সহজ সমাধান হতে পারে ননস্টিক প্যান। এতে যেমন অল্প তেলে রান্না করা যায়, তেমনি তেল ছাড়াও করা যায়। আর এতে পোড়া লেগে যাওয়ার ভয় নেই। কিন্তু ননস্টিক প্যানে থাকে ক্ষতিকারক টেফলন, যা মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ননস্টিক প্যানের ওপর যে সিনথেটিক পলিমারের আবরণ থাকে, তার নাম টেফলন। ক্ষতিকর এ উপাদানটি এড়াতে চাইলে ভালো মানের ও ভারী স্টেইনলেস স্টিল প্যান ব্যবহার করা উচিত। লোহা কিংবা সিরামিক টাইটেনিয়ামের প্যান হতে পারে ভালো অপশন। এগুলো তেল ছাড়া রান্নার জন্য একেবারে জুতসই।

ঝোল ছাড়া যেকোনো চচ্চড়ি কিংবা শুকনো খাবার তৈরির জন্য ব্যবহার করতে পারেন ফ্লেম ডিফিউজারও। এতে চুলার আঁচ সরাসরি হাঁড়িতে লাগে না। ফলে আচমকা খাবার পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। এমনকি যারা স্টোভে রান্না করেন, সেখানেও এ ডিফিউজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

এবার আসা যাক রান্নায়। তেল কিংবা বাটার ছাড়াই মুচমুচে ভাজাপোড়া খেতে চাইলে বিকল্প হিসেবে পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। তেলের পরিবর্তে এক-দুই টেবিল চামচ পানি ব্যবহার করুন। আরেকটু ভেঙে বললে, ধরুন, লাল করে পেঁয়াজ ভাজতে চাইছেন। ফ্রাইপ্যানে সামান্য পানি দিয়ে ভাজার জন্য পেঁয়াজগুলো দিন। পানি গরম হয়ে এলে সেখানে পেঁয়াজগুলো ভেজে নিন। দেখবেন পেঁয়াজ ভাজা হয়ে লাল রঙ ধারণ করবে। রান্না করতে গেলে যে সময়টায় আপনি তেল ব্যবহার করেন, ততক্ষণে অল্প পানি দিয়ে পেঁয়াজ ও অন্যান্য মসলা দিয়ে কষালে তেল ছাড়া খুব সহজে আপনি রান্না করতে পারবেন। এছাড়া কাঠের চামচ ব্যবহার করলেও খাবার পোড়ার সম্ভাবনা থাকে না।সাধারণত ওভেনে যেকোনো শাক-সবজি কিংবা অন্যান্য খাবার রোস্টিং বা সেঁকে নিতে অনেকেই একটু তেল ব্রাশ করে নেন। তেল ছাড়া রান্নার জন্য এর বদলে ভেজিটেবল স্টক কিংবা সয়া সস মেখে নিতে পারেন। এতে খাবারের স্বাদ থাকবে আগের মতোই।

এখন রমজান মাস। এ সময়ে ইফতারিতে আলুর চপ, পেঁয়াজুর মতো সুস্বাদু সব খাবার তৈরি হয়, যার বেশির ভাগই ডুবো তেলে ভাজা হয়। কিন্তু ডুবো তেলে ভাজলে খাবারে প্রচুর পরিমাণে তেল শোষিত হয়। এমনটা যাতে না হয়, তার জন্য বেশনের পরিবর্তে অ্যারারুট কিংবা কর্ন পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে ব্রেডক্রামও ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া সালাদ ড্রেসিংয়ের সময় অনেকেই অলিভ অয়েল ব্যবহার করেন। এর পরিবর্তে ভিনেগার, ফলের রস কিংবা বাদামের বাটার ব্যবহার করতে পারেন। তেল ছাড়া কীভাবে রান্না করবেন, এ চিন্তায় মাথায় হাত না দিয়ে কী কী উপায়ে তেল ছাড়া রান্না করা যায়, তা বের করার চেষ্টা করুন। যে খাবারগুলো তেল ছাড়া এমনিতে আগুনের তাপে ভেজে খাওয়া যায়, তা ভেজেই খান। অর্থাত্ রান্নার সময় মাথায় রাখতে হবে, খাবার যতটা সম্ভব তেলহীন করা যায়। সূত্র: বনিক বার্তা