মজার রান্না ডেস্ক: রান্না বা খাবারের এমন কিছু বিষয় আছে, যা আমরা নিজেদের মতো করে তৈরি করে নিয়েছি। ভাবছি, কাজটা সহজেই হয়ে গেল। আসলে তা নয়। এতে আরও সমস্যা তৈরি হয়। এখানে রান্নাঘরের এমন কিছু ‘গোপন কথা’ ফাঁস করা হলো, যা আপনার কাজকে অনেকটাই সহজ করে দিতে পারে।

১. বাসার ফ্রিজে কোন তাকে কী রাখছেন, তা একটু খেয়াল রাখা জরুরি। এমন কিছু ফলমূল বা সবজি আছে, যা বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করতে আমরা ফ্রিজে রাখি। এর মধ্যে আপেল, কলা, টমেটো বা আলু ফ্রিজে না রেখে বাইরে রাখাই ভালো। কারণ, এসব ফলমূল বা সবজি বাইরেই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভালো থাকে। কম তাপমাত্রায় আলু আরও মিষ্টি হয়ে যায়।

২. ফ্রিজে মাংস রাখার ক্ষেত্রে অনেকে ভুল করেন। বরফজমা মাংস ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। এ ছাড়া পাত্রে পানি দিয়ে তারপর মাংস রাখাও ভুল। গরম পানিতে ভেজানো মাংস ফ্রিজে রাখলেও স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। তাই তরতাজা বরফমুক্ত মাংস ফ্রিজে রাখুন। স্বাদ ঠিক থাকবে।

৩. আলু ভর্তায় ব্লেন্ডার ব্যবহার করা ঠিক নয়। অনেকে আলুর ভর্তা ভালো করতে এটা করেন। ব্লেন্ডারে আলু এত বেশি পিষে ফেলে যে আলুর স্বাভাবিক চেহারা হারিয়ে যায়। আলু ভর্তা করতে বরং ম্যানুয়াল যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেন।

৪. আমরা সাধারণত ফ্রিজে দুধ বা জুস রাখার জন্য ফ্রিজের দরজাকেই (ডালা) বেছে নিই। তবে ফ্রিজের দরজায় দুধ রাখা উচিত নয়। কারণ, ফ্রিজের ভেতরের চেয়ে দরজায় তাপমাত্রা বেশি থাকে। আবার নিয়মিত দরজা খোলা বন্ধ করার ফলে দুধের স্বাভাবিক থাকার স্থায়িত্ব কমতে থাকে।

৫. অনেকেই লম্বা নুডলস বা পাস্তা সেদ্ধ করার সময় গরম পানিতে খাড়াভাবে রাখেন। এতে পানির নিচের অংশ আগে সেদ্ধ হয়ে যায়। ওপরে থাকা অংশ তুলনামূলকভাবে কম সেদ্ধ হয়। তাই নুডলস বা পাস্তা চুলার গরম পানিতে ছাড়ার পরই কাঠি দিয়ে নেড়ে ডুবিয়ে দিন। এতে সমানভাবে সেদ্ধ হবে।

৬. ওভেনে বেক করার জন্য খাবার রেখে নির্ধারিত সময়ের আগে ওভেনের দরজা খোলা যাবে না। রুটি বা কেক তৈরির সময় বারবার দরজা খুলে চেক করলে ওভেনের তাপমাত্রা ঠিক থাকে না, এতে রুটি বা কেক স্বাভাবিকের চেয়ে কম ফুলবে। এ ছাড়া পেস্ট্রি তৈরির জন্য ওভেনে দিয়ে যদি চেক করার খুবই দরকার পড়ে, তাহলে অল্প সময়ের জন্য খুলুন।

৭. কাচের বয়ামে খাবার রাখা ভালো। আর বয়ামে খাবার রাখার আগে একটা বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি, বয়াম পুরোপুরি ভর্তি না করে কিছুটা খালি রাখলে খাবার ভালো থাকে। এই খালি রাখার বিষয়টা আবার একেক ধরনের খাবারে একেক পরিমাণ। যেমন জ্যাম বা জেলির বয়াম ১ থেকে ৩ মিলিমিটার খালি রাখুন, ফলমূল বা টমেটো সংরক্ষণ করলে বয়াম ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার খালি রাখুন। কম অ্যাসিড-জাতীয় খাবার হলে খালি জায়গা রাখুন ২৫ থেকে ৩০ মিলিমিটার পর্যন্ত।

৮. রান্নার সময় আমরা অনেকে যে ফ্রাই প্যানে ডিম ভাজি, সেটাতেই আবার মাংস রান্না করছি। এটা মোটেও ঠিক না। রান্নার উপকরণের ওপর ভিত্তি করেই কোম্পানিগুলো নানা আকারের রান্নার পাত্র তৈরি করে। আপনি যে ফ্রাই প্যানে প্যানকেক তৈরি করবেন, সেটা খানিকটা চওড়া হবে। এর তল থাকবে অপেক্ষাকৃত পাতলা। আবার যখন মাংস রান্না করবেন, তখন আপনাকে বেছে নিতে হবে পুরু তলাযুক্ত কিছুটা উঁচু প্যান।

৯. রান্নার প্যানের মতো চাকুতেও রয়েছে নানা ধরন। একেক কাজের জন্য একেক ধরনের চাকু। নাশতার টেবিলে রুটি পিস করার জন্য এক ধরনের চাকু আবার মাছ কাটার জন্য আলাদা চাকু। মাংস, সবজি ও ফল কাটার চাকু কেনার আগে চিনে নিন। এতে আপনার কাজ সহজ হবে।

১০. রান্নাঘরে চপার বোর্ড বা কাটিং বোর্ড খুব দরকারি এক উপকরণ। যেকোনো ধরনের সবজি, মাছ, মাংস থেকে মরিচ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন সহজেই কাটিং বোর্ডে রেখে কেটে ফেলা যায়। তবে এই কাটিং বোর্ডও একাধিক আকারের ব্যবহার করা উচিত। কারণ, কাঁচা মাছ বা মাংস কাটার বোর্ডে সবজি বা ফল কাটা উচিত না। কাঁচা মাংসে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা ফল কাটার সময় সহজেই সেখানে প্রবেশ করে।