মজার রান্না ডেস্ক: নকল ডিমের মতো নকল চালে ভরে গেছে বাজার। নকল চাল বলতে যে চালগুলো বাজারে দেখা যাচ্ছে তা মূলত প্লাস্টিক চাল। এসব প্লাস্টিক চাল প্রধানত উৎপাদিত হয় চীন ও ভিয়েতনামে। কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ চাল ছড়িয়ে পড়ছে। এই চাল দেখতে সত্যিকারের চালের মতো হলেও এটি প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। ফলে বাজারে গিয়ে কিনে আনলেন মিনিকেট চাল। স্বাভাবিকভাবে সে ভাত রান্না হলো। রান্না শেষে খেয়েও ফেললেন। কিন্তু, জানলেনও না, আপনি যে চালের ভাত খেলেন, সেটা কৃত্রিম চাল!

আপনি বাজার থেকে প্লাস্টিকের চাল কিনে খাচ্ছেন কি না, তা একবারও কী ভেবে দেখেছেন?

ভেবে দেখা দরকার। কারণ, প্লাস্টিকের চাল স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। প্লাস্টিকে রয়েছে ফিলেইটস নামক উপাদান, যা হরমোন এবং প্রজনন ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক চাল দীর্ঘদিন ধরে খেলে ক্যান্সার, হজমের রোগ, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়াসহ একাধিক রোগ দেখা দিতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন চালটি আসল নাকি নকল?

১. এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ চাল দিয়ে নাড়ুন। প্লাস্টিকের চাল হলে এটি পানির উপর ভাসতে থাকবে। সত্যিকারের চাল কখনও পানির উপর ভাসবে না, এটি পানির নিচে চলে যাবে।

২. একটি টেবিল চামচে চাল নিন। এটি চুলায় আগুনের উপর রাখুন। যদি প্লাস্টিক পোড়ার গন্ধ পান তবে বুঝতে হবে এটি প্লাস্টিকের চাল।

৩. একটি প্যানে এক চা চামচ তেল দিয়ে এতে কিছু পরিমাণ চাল দিয়ে দিন। এটি ভাজুন। প্লাস্টিকের চাল গলে যাওয়া শুরু করবে এবং প্যানের নিচে লেগে যাবে। এই রকম হলে আজই এই চাল খাওয়া বন্ধ করুন।

৪. এক কাপ চাল সিদ্ধ করুন। কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডা হয়ে এলে চাল লক্ষ্য করুন। ভাতের উপর একটি ঘন লেয়ার পড়ে তবে বুঝতে হবে এটি প্লাস্টিকের লেয়ার। এই চাল প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি।

৫. কিছু পরিমাণ চাল গুঁড়ো করে নিন। যদি চালের গুঁড়ো সাদা হয় তবে সেটি আসল চাল। আর যদি চালের গুঁড়ো হলুদ বা অন্য কোনো রঙের হয় তবে সেটি নকল চাল।

৬. নকল চাল বুঝতে পারার আরেকটি উপায় হলো, কিছু চাল রান্না করুন। এটি সাধারণ তাপমাত্রায় দুই তিন দিন রেখে দিন। যদি ভাত নষ্ট বা ফাঙ্গাস দ্বারা আক্রান্ত না হয় তবে বুঝতে হবে আপনি প্লাস্টিক চাল খাচ্ছেন। সত্যিকারে চালের ভাত সাধারণ তাপমাত্রায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে।