পিক্যান কাপকেক

কাপকেকের টপিঙের জন্য তো সবসময়ই ফল বা চকলেটই ব্যবহার করেন। এবার তাহলে ভিন্ন কিছু তৈরি করা যাক। পিক্যান বাদাম দিয়ে তৈরি করুন মজাদার কাপকেক। চলুন রেসিপিটি জেনে নিই –

প্রয়োজনীয় উপাদান

৩/৪ কাপ পিক্যান

১/৪ কাপ ব্রাউন সুগার

১ কাপ ময়দা

১/২ টেবিল চাচম বেকিং সোডা

১/৪ তরল মাখন

১/৪ কাপ সর্টেনিং (কেক, প্যাস্ট্রি ইত্যাদি বানানোর ১টি উপাদান)

৩/৪ কাপ দানাদার চিনি

৩টি ডিম

১/৪ টেবিল চাচম ভ্যানিলা এক্সট্রাক্ট

১/২ কাপ বাটারমিল্ক

ফ্রস্টিঙের জন্য

১/৪ কাপ বাটার

৮ আউন্স তরলায়ীত ক্রিম চিজ

৪ কাপ দানাদার চিনি

১/৮ টেবিল চাচম ভ্যানিলা এসেন্স

প্রস্তুত প্রণালী

১. ওভেন ৩৫০° ফারেনহাইট তাপমাত্রায় প্রি-হিটে দিন। এরপর রেগুলার সাইজের মাফিনের কাপে বেকিং পেপার বিছিয়ে নিন।

২. এবার ছোটো ১টি প্যানে পিক্যানগুলো নিয়ে ৬-১০ মিনিট বেক করুন। এ অবস্থায় প্যানের মুখ খোলা রাখতে হবে, ঢাকা যাবে না। পিক্যানের দিকে খেয়াল রাখুন, বাদামি রঙের হয়ে এলে ওভেন থেকে নামিয়ে নিন। এরপর ঠান্ডা করে নিন।

৩. পিক্যান ঠান্ডা হওয়ার পর পিক্যানগুলো কুচি করে কেটে নিন। পিক্যান কুচি করা হয়ে গেলে এর সাথে ব্রাউন সুগার মিশিয়ে রেখে দিন। আপনার কাপকেকের টপিং তৈরির কাজ শেষ।

৪. এবার ছোটো ১টি পাত্রে ময়দা এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে রেখে দিন।

৫. আরেকটি মাঝারি আকৃতির পাত্র নিন। পাত্রটিতে বাটার আর সর্টেনিং নিয়ে উপরে ফেনিল না হওয়া পর্যন্ত ফেটাতে থাকুন। হাতে ফেটানো বেশ কষ্টকর। এক্ষেত্রে ইলেকট্রিক বা হ্যান্ড বিটার ব্যবহার করতে পারবেন।

পরিশ্রম অনেক কমে যাবে। বাটার আর সর্টেনিং মিশে গেলে এতে দানাদার চিনি দিয়ে আবার ফেটাতে থাকুন। চিনি ভালোভাবে মিশে যাওয়ার পর মিশ্রণটিতে পুনরায় শুধু ডিমের কুসুম দিয়ে ফেটান।

মিশ্রণে ডিমের কুসুম মিশে যাওয়ার পর এতে ভ্যানিলা এসেন্স, বাটারমিল্ক এবং ময়দার মিশ্রণটি দিয়ে ফেটানো শুরু করুন। সবকিছু ভালোভাবে মিশে যাওয়ার পর এধাপের কাজ শেষ। অবশ্যই সবগুলো উপাদান ধাপে ধাপে দিয়ে ফেটাবেন। নাহলে ওভেনে দেয়ার পর কেক ভালোভাবে জমাট বাঁধবে না।

৬. এবার অন্য আরেকটি পাত্রে ডিমের সাদা অংশটুকু নিয়ে ফেটানো শুরু করুন। ডিমের সাদা অংশ ফেটানো হয়ে গেলে এতে অবশিষ্ট দানাদার চিনি দিয়ে ফেটাতে থাকুন। চিনি পুরোটা একসাথে দেবেন না। প্রতিবার ১ টেবিল চামচ করে দিন।

৭. এবার ৫ নং ধাপে তৈরি করা ময়দার মিশ্রণ এবং ৬ নং ধাপে তৈরি করা ডিমের সাদা অংশের মিশ্রণ একসাথে মিশিয়ে নিন। ভালোভাবে মেশানো হয়ে গেলে মাফিন কাপগুলোর ১/৩ অংশ এই মিশ্রণটি দিয়ে পূর্ণ করুন।

৮. বেকিং প্যানে মাফিন কাপগুলো তুলে ওভেনে দিন। ২৫ মিনিট ধরে বেক করুন। বেক করা হয়ে গেলে ঠান্ডা করে নিন। কেক তৈরির কাজ শেষ, বাকি রইলো ফ্রস্টিং আর টপিঙের কাজ।

৯. এবার ফ্রস্টিঙের জন্য ১টি মাঝারি ভারী সসপ্যানে ১/৪ কাপ মাখন নেড়েচেড়ে জ্বাল করতে থাকুন। চুলার আঁচ অল্প রাখবেন। মাখনের রং বাদামি হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। ঠান্ডা হওয়ার পরে ১টি বাটিতে নিয়ে ২০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন।

এরপর মাখন ফ্রিজ থেকে বের করে এরসাথে একে একে চিনি, ক্রিম চিজ এবং ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। মিশ্রণটি ফেনিল হয়ে গেলে ফ্রস্টিঙের জন্য মিশ্রণ তৈরির কাজ শেষ।

১০. এবার মাফিন কাপে বানিয়ে রাখা কাপকেকগুলো নিন। ৯নং ধাপে তৈরি করা মিশ্রণটি ২ টেবিল চামচ করে দিয়ে কাপকেকের উপর ফ্রস্টিং করে নিন। শুধু চামচ দিয়েও ফ্রস্টিং করতে পারেন।

অথবা, ১টি পলিথিনে মিশ্রণটি ঢুকিয়ে থ্রিভুজাকৃতি করে নিন। নিচের দিকের সামান্য অংশ কেটে নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মিশ্রণটি ঢেলেও ফ্রস্টিং করতে পারেন। এতে কাপকেকগুলো দেখতে চমৎকার হবে।

১১. পিক্যান কাপকেক তৈরি করার সব কাজই প্রায় শেষ। এবার শুধু বাকি পিক্যান যুক্ত করা, অর্থাৎ টপিঙের কাজ বাকি। ২ নং ধাপে বানিয়ে রাখা পিক্যানের টপিংটি প্রত্যেকটি কাপকেকের উপর দিয়ে দিন। তৈরি হয়ে গেলো মজাদার পিক্যান কাপকেক।

১২. সবশেষে কাপকেকগুলো ফ্রিজিং করুন। অনেকেই গরম খেতে পছন্দ করলেও পুরো স্বাদ পেতে ফ্রিজিং করার বিকল্প নেই। ১.৩০-২ ঘন্টা ধরে কাপকেকগুলো ফ্রিজে রেখে দিন। এরপর ফ্রিজ থেকে বের করে পরিবেশন করুন।

অন্যান্য কাপকেকের সাথে পিক্যান কাপকেক তৈরি করার পদ্ধতিতে তেমন পার্থক্য না থাকলেও পিক্যানের টপিং একবারে নতুন ধরনের স্বাদ যোগাবে। রাতের খাবারের পর ডেজার্ট হিসেবে অথবা বিকেলের নাস্তায়, সকলেই পিক্যান কাপকেক খেতে পছন্দ করবেন। বাচ্চাদের টিফিনে দিয়ে দিলে টিফিনবক্স ভরা ফেরত আসবে না এইটুকু বলতেই পারি। তো এবার চট করে বানিয়েই ফেলুন পিক্যান কাপকেক।

ফ্রস্টিং

অনেকেই হয়তো জানেন না ফ্রস্টিং কি। তাদের সুবিধের জন্য ফ্রস্টিং কি তা বর্ণনা করছি –

যেকোনো কেক বা প্যাস্ট্রির উপরে ও চারপাশে ক্রিম দিয়ে ঢেকে দেয়াকে আইসিং বা ফ্রস্টিং বলা হয়। ফ্রস্টিং নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছুই নেই।

কোথায় পাবেন রান্নার উপাদানসমূহ

যেহেতু পিক্যান আমেরিকান বাদাম, তাই সহজে পাবেন না। পিক্যান বাদামের জন্য আপনাকে ঢুঁ মারতে হবে কোনো সুপারশপ বা বড়সড় গ্রোসারি শপে। বাকি উপাদানগুলো হাতের কাছেই পেয়ে যাবেন।

 

 

 

সূত্র: Food Tips