মজার রান্না ডেস্ক: বিয়েবাড়ির খাবারের তালিকায় থাকা সাদা পোলাও, খাসি বা গরুর রেজালা, মুরগির রোস্ট, জর্দা, বোরহানি বা দই ইত্যাদির পাশাপাশি এসেছে নতুন আরও নানা ধরনের খাবার। এখন বিয়ের খাবারের মেন্যুতে চলে এসেছে খাসির কাচ্চি, মুরগির গ্রিল, ফিরনি, মাঠা বা লাবাং, সালাদ ইত্যাদি। আছে মোরগ পোলাও, গরু বা খাসির কাচ্চি ইত্যাদিও। মোট কথা, এখন অনেকেই চাইছে বিয়ের খাবারে একটু নতুনত্ব।

তাছাড়া বিয়ের পরে ‘জামাই খাতির’ বলে একটা বিষয় থেকেই যায়। আমাদের সমাজের এক প্রকার নিয়ম হলো বিয়ের পর শ্বাশুড়ী তার নতুন জামাইকে একদম পেট পুড়ে খাবার দাবার খাইয়ে জামাইয়ের পেট এবং মনকে তৃপ্ত করবে।বিয়ের খাবার দাবারের সমস্ত কথা নিয়েই আজ আপনাদের বলবো। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিয়ের খাবার বা জামাই খাতিরের খাবার দাবারের কিছু সহজ রেসিপি। যা আপনি চাইলে বিয়েবাড়ির সমস্ত ঝামেলার মাঝেই খুব সহজে তৈরি করে নিতে পারবেন।

পনির পোলাও–পোলাও যে কোন বাংলাদেশী বিয়েতে একটি অবশ্যম্ভাবী খাবার। এটি সুগন্ধযুক্ত চাল (বাসমতী বা চিনিগুড়া), পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, ঘি এবং অন্যান্য বস্তু দিয়ে রান্না করা হয়। এটি মূলত চাউলে তৈরি মশলাযুক্ত খাবার। রোস্ট বা রেজালার সাথে এটিকে পরিবেশন করা হয়।চলুন পনির পোলাও তৈরির সহজ রেসিপিটি জেনে নেওয়া যাক।

প্রয়োজনীয় উপকরণ-২ কাপ বাসমতী চাউল,২০০ গ্রাম পনির (কটেজ চিজ, ১ ইঞ্চি পরিমাণ কিউব করে কাটা),তেল (পরিমাণমতো),৪ টেবিল চামচ ঘি,তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ (পরিমাণমতো),১ টেবিল চামচ আদা বাঁটা,৩/৪ কাপ টক দই,২ টেবিল চামচ বাদাম,১ টেবিল চামচ পেঁয়াজ বেরেস্তা (ভাজা পেঁয়াজ),লবন (পরিমাণমতো),

যেভাবে বানাবেন–প্রথমেই বাসমতী চাউলগুলো পানিতে আধা ঘন্টার মতো ভিজিয়ে রাখুন। এবার একটি প্যানে তেল নিয়ে গরম করুন। ডুবো তেলে পনির বা কটেজ চিজের টুকরো গুলো সোনালী রং করে ভেজে নিন।ভাজা হয়ে গেলে একটি কিচেন টিস্যুর উপর পনিরের টুকরোগুলো রেখে দিন যেন বাড়তি তেল টিস্যুটি শুষে নিতে পারে। একটি ভারী প্যান নিয়ে ৪ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে গরম করুন।গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে তেজপাতা, এলাচি, লবঙ্গ, দারুচিনি ইত্যাদি সকল মশলা দিয়ে দিন। ভাজা হয়ে গেলে আদা বাঁটা দিয়ে নাড়তে থাকুন। এবার টক দই নি ফেটিয়ে প্যানে দিয়ে ভালো করে নেড়ে দু’মিনিটের মতো রান্না করুন।তারপর, প্যানে চার কাপ পানি দিয়ে দিন। পানি ফুটতে শুরু করলে লবন ও চাউল একসাথে দিয়ে দিন। চাউল সেদ্ধ হবার সময় অর্ধেক বাদাম দিয়ে আলতো করে নাড়ুন।এবার প্যানটি একটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে চুলার আঁচ কমিয়ে ১০ মিনিট রান্না করুন।যদি চাউল সেদ্ধ না হয় তবে আরও কিছুক্ষণ চুলায় রেখে দিন। পুরোপুরি সেদ্ধ হয়ে গেলে এর মধ্যে ভেজে রাখা পনিরের টুকরোগুলো দিয়ে হালকা নেড়েচেড়ে নিন।পোলাও নামানোর আগে এর উপর বাকি অর্ধেক বাদাম দিয়ে ভালো করে সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন পনির পোলাও।

তান্দুরি পমফ্রেট-বিয়ের বাড়ির খাবার মানেই বিশেষ কিছু। তারপরও বরপক্ষের জন্য আমাদের স্পেশাল কিছু আইটেম থেকেই থাকে। কিংবা বিয়ের পর জামাইকে জামাই আদর নামে আমরা চেষ্টা করি যতোটা সম্ভব ভালো খাবার দাবার খাওয়াতে।বর্তমানে বিয়ে বাড়ির খাবারের মেন্যুতে অন্যান্য খাবারের সাথে যোগ হয়েছে ‘তান্দুরি পমফ্রেট’ও। মুচমুচে গরম ভাজা পমফ্রেট ফ্রাই দিয়ে পোলাও বা গরম সাদা ভাত খেতে বেশ ভালোই লাগে।চলুন, জেনে নেওয়া যাক তান্দুরি পমফ্রেট তৈরির রেসিপিটি। এটি বানাতে সর্বোমোট ২০ মিনিট, উপকরণ গোছাতে লাগবে প্রায় ঘন্টা দু’য়েকের মতোন।

প্রয়োজনীয় উপকরণ–২ টি পমফ্রেট মাছ,২ টেবিল চামচ বাটার,৩/৪ কাপ টক দই,১ টি ডিম,১ টেবিল চামচ আদা বাটা,১ টেবিল চামচ রসুন বাটা,২ টেবিল চামচ মটর ডালের গুড়ো,২ টেবিল চামচ লেবুর রস,১/২ চা চামচ হলুদ গুড়ো,লবন পরিমাণমতো,১/৪ চা চামচ গরম মশলাগুড়ো,২ টেবিল চামচ সরিষার তেল,

যেভাবে বানাবেন–১. এটি খুবই সহজ একটি রেসিপি। এই রেসিপিটি তৈরি করার জন্য মাছটি প্রথমে লেজ ও পাখনা ফেলে দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর ছুরি দিয়ে মাছের গায়ে হালকা করে চিড়ে দিন।২. এবার একটি বাটিতে টক দই, বাটার, আদা বাটা, রসুন বাটা, হলুদ গুড়ো, লবন, মটর ডালের গুড়ো, লেবুর রস, এবং মরিচ গুড়ো নিয়ে মাছের গায়ে ভাল করে লাগিয়ে দিন। ডালের গুড়ো এবং টক দই পরিমাণমতো মেশাতে হবে যেন মিশ্রণটি খুব পাতলা না হয়ে যায়।৩. মাছের দু পিঠেই ভালো করে মিশ্রণটি লাগিয়ে ম্যারিনেট করতে হবে। ভালোভাবে ম্যারিনেটের জন্য মাছটি প্রায় ঘন্টা খানেকের জন্য ফ্রিজে রেখে দিন।৪. ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওভেনটি প্রি-হিট করে নিন। যে প্যানে বা মাছটি গ্রিল করবেন সেখানে ব্রাশ দিয়ে তেল লাগিয়ে নিন। এবার মাছটিকে ওভেনের ভেতরে দিয়ে প্রায় ১৫-২০ মিনিট গ্রিল করে নিন। মাছটি হয়ে গেলে এটি সোনালী বাদামী রং ধারণ করবে।অনিওন রিং ও লেবু দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন এই তান্দুরি পমফ্রেট।

মাটন ঘি রোস্ট–বিয়ে বাড়ির খাবারে রোস্ট যেন আরও একটি অবশ্যম্ভাবী খাবার। সেই প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে এখন অব্ধি রোস্ট আমাদের খাবারের প্রধান আকর্ষণ হিসেবেই জায়গা করে নিয়েছে। সাধারণত চিকেন রোস্ট খাওয়া হলেও আজ আমরা বিয়ে বাড়ির জন্য তৈরি মাটন ঘি রোস্ট তৈরির সহজ রেসিপিটি সম্পর্কে জানবো।মাটন ঘি তৈরির জন্য আমাদেরকে একটি বিশেষ মশলা তৈরি করে নিতে হবে। এই মশলাটিই মূলত মাটন ঘি রোস্টের বিশেষত্ব। আর এই মশলাই মাংসগুলো খেতে বেশ নরম ও মজাদার করে তোলে।

প্রয়োজনীয় উপকরণ–মাংসের জন্য-১ কেজি খাসির মাংস (সিনার মাংস অথবা আপনার পছন্দ অনুযায়ী),৬ টেবিল চামচ ঘি,১ চা চামচ আদা-রসুন বাটা,১ চা চামচ হলুদ গুড়ো,২ টেবিল চামচ টক দই,লবন (পরিমাণমতো),কারি পাতা (গার্নিশের জন্য),মশলা তৈরির জন্য,১০-১২টি শুকনো মরিচ,১ টেবিল চামচ ধনিয়া গুড়ো,২ চা চামচ জিরা গুড়ো,১ চা চামচ গোল মরিচ গুড়ো,৪-৫ টি লবঙ্গ,,১টি বড় দারচিনির টুকরো,১ টেবিল চামচ মৌরি গুড়ো,১ ইঞ্চি পরিমাণ আদা টুকরো (বেঁটে নিতে হবে),২ কোয়া রসুন বাটা,১ টি লেবুর রস,৪ টেবিল চামচ পানি,

যেভাবে বানাবেন–প্রথমে একটি প্যানে ঘি দিয়ে গরম করে নিন। এতে আদা বাটা, রসুন বাটা এবং হলুদ গুড়ো দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। মশলা কষানো হয়ে গেলে এতে মাংসের টুকরোগুলো দিয়ে দিন। সাথে লবন এবং পরিমাণমতো পানি দিয়ে দিন।পানির পরিমাণ এমন হবে যেন মাংসের টুকরোগুলোর উপর সামান্য পানি থাকবে। পানি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত এবং মাংস সেদ্ধ না পর্যন্ত রান্না করতে থাকুন। রান্না হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে রাখুন।এবার মশলা তৈরির জন্য প্রথমে চুলোয় একটি তাওয়া বসিয়ে এতে শুকনো মরিচ, ধনিয়া, জিরা, গোল মরিচ, মৌরি ও লবঙ্গ টেলে নিন। টালার পর মশলাগুলো মুচমুচে হয়ে যাবে এবং বেশ সুন্দর একটি গন্ধ নাকে এসে লাগবে।এবার একটি গ্রাইন্ডারে প্রথমে ঠান্ডা করা মশলাগুলো নিয়ে গ্রাইন্ড করে নিন। তার পর মশলাগুলোর সাথেই আদার টুকরো, রসুনের কোয়া, এবং লেবুর রস দিয়ে ভালো করে পেস্ট তৈরি করে নিন। যদি পানি প্রয়োজন মনে হয় তবে পরিমাণমতো পানি দিয়ে ভালো করে মশলাটি তৈরি করে নিন।আরেকটি প্যান নিয়ে এতে সামন্য পরিমাণ ঘি গরম করে নিন। ঘি গরম হয়ে গেলে মশলার মিশ্রণটি প্যানে দিয়ে দিন। সাথে সম্পূর্ণ টক দই দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। পানি এবং লবন দিয়ে কিছু সময় ধরে রান্না করুন।ঘি, মশলা ও টক দইয়ের মিশ্রণটি ততক্ষণে ঘন গ্রেভি ও ক্রিমি হয়ে যাবে। এবার এর মধ্যে সেদ্ধ করা মাংসগুলো দিয়ে ৪-৫ মিনিট মৃদু আঁচে রান্না করুন। রান্না প্রায় হয়ে এলে, কারি পাতা দিয়ে চুলার আগুন নিভিয়ে দিন। ব্যস, তৈরি আপনার মজাদার মাটন ঘি রোস্ট।বিয়ে বাড়ির খাবারের অন্যতম আকর্ষণ এই মাটন ঘি রোস্ট সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন, যা ভাত বা পোলাও দিয়ে অনায়েসেই খেতে পারবেন।

চিকেন শাহজাহানী–বিয়ে বাড়ির খাবার আর চিকেন থাকবে না এটা অবশ্য মানা যায় না। মুরগির রেজালা বা রোস্ট একটি সাধারণ পদ বিয়ে বাড়ির খাবারে। যেহেতু বিয়ে মানেই নানান চমকপ্রদ খাবারের সমারোহ, তাই আজ আমরা একটি চমৎকার রেসিপি শিখবো। যার নাম ‘চিকেন শাহজাহানী’।

প্রয়োজনীয় উপকরণ–১ কেজি মুরগি,৩ টেবিল চামচ চামচ ঘি,২ টেবিল চামচ ভেজিটেবল তেল,৩/৪ টি লবঙ্গ,২ টি এলাচ,১ কাপ কুচানো পেয়াজ,২ চা চামচ আদা-রসুন বাটা,২ টেবিল চামচ পোস্তোদানা,১০-১২ টি কাজু বাদাম,২ টেবিল চামচ মিষ্টি কুমড়োর বিচি,১ চা চামচ হলুদ গুড়ো,২ চা চামচ লাল মরিচ গুড়ো,১/২ চা চামচ গরম মশলা গুড়ো,৪ টেবিল চামচ টকদই,লবন পরিমাণমতো,২ টেবিল চামচ ফ্রেশ ক্রিম,৪-৫ ফোঁটা কেওরা জল,ধনেপাতা (গার্নিশের জন্য),৩/৪ টি সেদ্ধ ডিম,

যেভাবে বানাবেন–একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে এর মধ্যে পোস্তদানা, কাজু বাদাম ও কুমড়োর বিচিগুলো মিনিট ত্রিশেকের মতো ভিজিয়ে রেখে একটি গ্রাইন্ডারে নিয়ে, পেস্ট করে নিন।চুলায় প্যান বসিয়ে, তেল এবং ঘি একসাথে দিয়ে গরম করে নিন। এবার লবঙ্গ, এলাচ প্যানে দিয়ে কয়েক সেকেন্ড ভেজে নিন। এর মধ্যে পেয়াজগুলো দিয়ে ভেজে নিন।পেয়াজ ভাজা হয়ে গেলে এটি মুচমুচে ও বাদামী রঙয়ের দেখাবে। প্যানটি চুলা থেকে নামিয়ে পেয়াজগুলো ঠান্ডা করে নিন।এবার গ্রাইন্ডারে সামান্য পানি দিয়ে ভাজা পেয়াজগুলো ব্লেন্ড করে নিন। এই মিশ্রণটির সাথে আগে তৈরি করে রাখা বাদাম, পোস্তোদানা ও কুমড়ো বিচির পেস্টের সাথে নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।যদি পানি প্রয়োজন মনে হয়, সাথে সামান্য পানি যোগ করে নিন।মিশ্রণটি একটি পাত্রে নিয়ে এক মিনিটের মতো রান্না করুন। হলুদ গুড়ো, মরিচ গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো এবং লবন দিয়ে ৪-৫ মিনিটের মতো মিশ্রণটি কষিয়ে নিন।মশলা কষানো হয়ে গেলে এর মধ্যে চিকেনের টুকরোগুলো দিয়ে ২ মিনিট হাই টেম্পারেচারে রান্না করুন।এবার এতে টক দই এবং হাফ কাপ পানি দিয়ে চিকেনগুলো ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। প্রায় ১৫-২০ মিনিটের মতো মাংস সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করে নিন।ঢাকনা খুলে ক্রিম, কেওরা জল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে আরও ৫ মিনিট রান্না করুন।রান্না হয়ে গেলে ধনেপাতা ও সেদ্ধ ডিমের টুকরো দিয়ে সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন, চিকেন শাহজাহানী।এটি গরম সাদা ভাত, পোলাও বা নান দিয়ে খেতে খুব সুস্বাদু লাগবে।

মোগলাই বিফ ফিলেট দম কারী–এটি একটি বিখ্যাত মোগলাই খাবার। এর নিজস্ব একটা স্বাদ ও গন্ধ রয়েছে যার কারণে যেকোন উৎসব বা অনুষ্ঠানে এর আলাদা একটি কদর রয়েছে। যারা বিফ খেতে খুব পছন্দ করেন তাদের জন্য এই মোগলাই খাবারটি একটি আদর্শ খাবার।আর বিয়ে বাড়ি হলে তো কথাই নেই, এর কদর যেন আরও কয়েকধাপ বেড়ে যায়, বিয়ে বাড়ির খাবারের মেন্যুতে জায়গা পেলে। তো চলুন, জেনে নেওয়া যাক মোগলাই বিফ ফিলেট দম কারী তৈরির সহজ রেসিপিটি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ–১ কেজি বিফ (হাড় ছাড়া মাংস),২০ গ্রাম ধনিয়া,২ চা চামচ লাল মরিচ গুড়ো,১ টেবিল চামচ গরম মশলা,১/৪ কাপ সবুজ মশলা (ধনেপাতা,পুদিনাপাতা ও কাঁচামরিচ একসাথে ব্লেন্ড করা),১/৪ কাপ কাঠবাদাম ও তিল (পেস্ট করা),২ টি বড় পেয়াজ কুচি,১/২ কাপ টক দই,২ টেবিল চামচ আদা- রসুন বাটা,৪ টেবিল চামচ ঘি,২ টেবিল চামচ তেল,লবন পরিমাণমতো,

যেভাবে বানাবেন–প্রথমে একটি বাটি নিয়ে, সবুজ মশলা অর্থাৎ ধনেপাতা, পুদিনাপাতা ও কাঁচামরিচের পেস্টটি নিয়ে কাঠবাদাম ও তিলের পেস্টের সাথে লবনসহ ভালো করে একটি চামচ দিয়ে মিশিয়ে নিন।এবার মিশ্রণটিতে বিফের টুকরোগুলো দিয়ে মিশিয়ে নিন ২ ঘন্টা ফ্রিজে রেখে দিন মেরিনেট হবার জন্য।একটি প্যানে ঘি ও তেল একসাথে গরম করে এতে পেয়াজ, লাল মরিচ দিয়ে কয়েক মিনিট ভেজে নিন। ভাজা হয়ে গেলে ম্যারিনেট করা গরুর মাংসগুলো দিয়ে নেড়ে চেড়ে মৃদু আঁচে ১০ মিনিট কষিয়ে নিন।টক দই, আদা-রসুন বাটা, গরম মশলা ও লবন দিয়ে ভালো করে মাংসগুলো মিশিয়ে নিন। মাংস সেদ্ধ হবার জন্য পানি লাগলে পানি পরিমাণমতো দিয়ে দিন।একটি ঢাকনা দিয়ে প্যানটি ঢেকে মৃদু আঁচে মাংস সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করতে থাকুন। মাঝখানে লবন ঠিক হয়েছে কিনা দেখে নিতে ভুলবেন না।মাংস সেদ্ধ হয়ে এলে এটি বেশ গ্রেভি ও ক্রিম হয়ে যাবে। টকদই দিয়ে ম্যারিনেট করার জন্যই মাংসটি গ্রেভি হবে। কাঠবাদামের পেস্ট এই বিফ কারীর মোগল স্বাদ ধরে রাখতে সহায়তা করবে।মাংস হয়ে গেলে ধনেপাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন গরম সাদা ভাত, নান কিংবা পরোটার সাথে।

হায়দ্রাবাদী সিকামপুরী কাবাব–কাবাব ভালোবাসে না এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাঙালীর বিয়ে আর কাবাব থাকবে এটি কল্পনাও করা যায় না। বিভিন্ন রকমের কাবাব হয়ে থাকে। আজ আমরা হায়দ্রাবাদী স্বাদের একটি কাবাব তৈরি করবো।চলুন, হায়াদ্রাবাদী সিকামপুরী কাবাব তৈরির সহজ রেসিপি জেনে নিই।

প্রয়োজনীয় উপকরণ–৫০০ গ্রাম খাসির মাংস (হাড়ছাড়া, ছোট কিউব করে কাটা),১/২ কাপ মটর ডাল, (৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে),২ টি তেজপাতা,২ টি দারচিনির টুকরো,২ চা চামচ লাল মরিচ গুড়ো,১ চা চামচ হলুদ গুড়ো,১ টেবিল চামচ আদা কুচি,১ টেবিল চামচ রসুন কুচি,১ টি ডিম,লবন স্বাদমতো,তেল, ভাজার জন্য,ফিলিং তৈরির জন্য-২ টি বড় পেয়াজ, ভালো করে কুচি করা,৫ টি কাচা মরিচ কুচি,৩ টেবিল চামচ ধনেপাতা কুচি,১ কাপ ছানা,

যেভাবে বানাবেন–একটি পাত্রে মাংস, মটর ডাল, তেজপাতা, দারচিনি, লবন, মরিচগুড়ো, হলুদ গুড়ো, আদা কুচি, রসুন কুচি এবং ২ কাপ পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন।মাংস সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করতে থাকুন। ততক্ষণে ডালগুলোও সেদ্ধ হয়ে যাবে।চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। গ্রাইন্ডারে দিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিন। মিশ্রণটির সাথে একটি ডিম ভালো করে মিশিয়ে নিন।ফিলিং তৈরি-ছানার সাথে ভালোভাবে কুচি করা পেয়াজ, কাচা মরিচ, ধনে পাতা, লবণ দিয়ে একসাথে মেখে নিন। এবার কাবাবের মিশ্রণ থেকে হাতে নিয়ে বল আকারে তৈরি করে নিন।আপনার হাত দিয়ে বলটি খুব পাতলা করে এর ভেতরে ছানার পুরটি দিয়ে উপরে আবারো কাবাবের মিশ্রণটি দিয়ে আপনি যে শেইপের কাবাব বানাতে চান সেরকম করে সবগুলো কাবাব তৈরি করে নিন।এবার একটি প্যানে তেল গরম হতে দিন। তেল গরম হয়ে গেলে বানিয়ে রাখা কাবাবগুলো মৃদু আঁচে চুলায়, সোনালী বাদামী রং করে ভেজে নিন।ভাজা হয়ে গেলে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার হায়দ্রাবাদী সিকামপুরী কাবাব।

কাশ্মিরী বাদামী ক্ষীর–বিয়ে মানেই শুভ কাজ। আর শুভ কাজ মানেই মিষ্টিমুখ করা। তাছাড়া বিয়ের ভরপেট খাবারদাবারের পর একটু ডেজার্ট না হলে খাবারটা যেন পরিপূর্ণ পায় না। তো আমাদের ‘জামাই খাতিরে’ ডেজার্ট হিসেবে আপনাদের জন্য রয়েছে ‘ কাশ্মিরী বাদামী ক্ষীর’। রেসিপিটি জেনে নেওয়া যাক।

প্রয়োজনীয় উপকরণ–২ লিটার দুধ,৩০ টি কাঠবাদাম,১/৪ চা চামচ এলাচ গুড়ো,৪ টেবিল চামচ চিনি,সামান্য জাফরান,২০ টি কাঠবাদামের স্লাইস পাতলা করে চিড়ে রাখা,

যেভাবে বানাবেন–কাঠবাদামগুলো ভালো করে ধুয়ে পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পানিতে ভিজিয়ে রাখাটা খুব জরুরী কারণ, কাঠবাদাম পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখলেই এর পুষ্টিগুণ বেড়ে যায় এবং এটি রান্না করতেও সহজ হয়।এবার কাঠবাদামের উপরের চামড়া তুলে নিয়ে পানিতে ধুয়ে গ্রাইন্ডারে পেস্ট তৈরি করে নিন। যদি খুব শক্ত মনে হয় তবে মিশ্রণটিতে সামান্য পরিমাণে দুধ যোগ করে ভালোভাবে পেস্ট তৈরি করে নিন।চুলায় মৃদু আঁচে প্রায় ১০ মিনিট দুধ জ্বাল দিন। দুধ ফুটতে শুরু করলে এতে কাঠবাদামের পেস্ট দিয়ে ভালো করে নাড়তে থাকুন। যেন জমাট না বেঁধে যায়।চুলার আঁচ একদম কমিয়ে দুধ অর্ধেক না হওয়া পর্যন্ত জ্বাল দিতে থাকুন। এসময় খুব সতর্কতার সাথে ক্রমাগত নাড়তে হবে নাহয় মিশ্রণটি পাতিলের নিচে লেগে পুড়ে যাবে।এবার এর সাথে এলাচ গুড়ো, চিনি যোগ করে মৃদু আঁচে আবারো ১০ মিনিট রান্না করুন। মিশ্রণটি যখন আঠালো হয়ে যাবে তখন জাফরান ও চিড়ে রাখা কাঠবাদামের টুকরোগুলো দিয়ে মিশিয়ে দিন। চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন।যে পাত্রে সার্ভ করবেন যেখানে মিশ্রণটি ঢেলে কাঠবাদাম ও পেস্তাবাদাম দিয়ে সাজিয়ে সুন্দর করে পরিবেশন করুন মজাদার ‘কাশ্মিরী বাদামী ক্ষীর।’

সূত্র:Food Tips