মজার রান্না ডেস্ক: ক্ষীর শব্দটি মূলত সংস্কৃত শব্দ ক্ষীরা থেকে এসেছে। ক্ষীরকে কেউ কেউ ফিরনি, পায়েস, পায়োস, কিরো, পায়াসা নামেও ডাকে। একেক দেশের একেক অঞ্চলে এটি একেক নামে পরিচিত। অর্থাৎ দেশ ও অঞ্চলভেদে এর নামের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। যারা এখনো ক্ষীর রান্না করতে পারেন না তাদের জন্য সুখবর। এই নিবন্ধ থেকে জানবেন কিভাবে বাসায় সুস্বাদু ও মজাদার ক্ষীর রান্না করা যায় তার রেসিপি সম্পর্কে।

কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে তৈরি ক্ষীর–আতপ চাল ও কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে মজাদার ক্ষীর তৈরি করা যায়। মাত্র এক ঘন্টা সময়ের মধ্যে দারুণ সুস্বাদু ক্ষীর তৈরি করা যায়। কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে ক্ষীর তৈরির জন্য যেসব উপকরণ লাগবে তা হলো–৫০ গ্রাম ভেজা চাল।এক টিন মিষ্টি স্বাদের কনডেন্সড মিল্ক।এক লিটার তরল দুধ।এক চিমটি এলাচ পাউডার।কাজুবাদাম ও কিশমিশ।

যেভাবে প্রস্তুত করবেন–প্রথমে একটি পাত্র দুধ ঢেলে তা গরম করে নিন। তারপর গরম দুধে ভেজা চাল ঢেলে দিন এবং রান্না করতে থাকুন।চাল দেওয়ার সময় একহাত দিয়ে চাল ঢালবেন এবং অন্য হাত দিয়ে নাড়তে থাকবেন। চাল নরম হয়ে এলে এর মাঝে কনডেন্সড মিল্ক ঢালুন এবং সাত মিনিট ধরে রান্না করুন।তারপর সামান্য এলাচের গুঁড়া মিশিয়ে নাড়তে থাকুন। আপনি যদি চিনি বেশি খেতে ভালবাসেন তাহলে পরিমাণমতো চিনি মিশিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন।তারপর একটি পাত্রে ঢেলে কাজুবাদাম ও কিশমিশ দিয়ে পরিবেশন করুন।

নারকেলের ক্ষীর–নারকেল দিয়ে মজাদার ক্ষীর প্রস্তুত করা যায়। এই ক্ষীর তৈরি করতে মাত্র ৫০ মিনিট সময় লাগে।

নারকেলের ক্ষীর তৈরিতে যেসব উপকরণ লাগবে তা হলো–১/২ কাপ ভেজা চাল।১/২ কাপ নারকেল কুঁচি।তিন কাপ দুধ।১/২ কাপ সাদা চিনি।এক টেবিল চামচ ঘি।এক চিমটি এলাচের গুঁড়ো।কিশমিশ।

যেভাবে প্রস্তুত করবেন-প্রথমে একটি পাত্রে দুধ ঢেলে ভালো করে গরম করে নিন। দুধ ভালো করে গরম হয়ে এলে দুধের মাঝে চাল, নারকেল কুচি ঢেলে ভালো করে নাড়ুন।এর সাথে পরিমাণমতো সাদা চিনি ও এলাচ গুঁড়া ছেড়ে দিন। তারপর অল্প আঁচে ৩০ মিনিট সময় ধরে রান্না করতে থাকুন।আরেকটি কড়াইয়ে ঘি ঢালুন এবং কিশমিশগুলো ভেজে নিন। রান্না শেষ হয়ে গেলে অন্য পাত্রে ক্ষীর ঢালুন এবং বেশি করে নারকেল কুঁচি ও কিশমিশ দিয়ে পরিবেশন করুন।

গুঁড়ের ক্ষীর–গুঁড় দিয়ে মজাদার ও সুস্বাদু ক্ষীর তৈরি করা যায়। যারা অন্যরকম স্বাদ পেতে চান তারা গুঁড়ের ক্ষীর অবশ্যই তৈরি করবেন। এই ক্ষীর তৈরিতে সময় লাগবে এক ঘন্টা ত্রিশ মিনিটের মতো।

গুঁড়ের ক্ষীর তৈরিতে যেসব উপকরণ লাগবে তা হলো১/২ কাপ ভেজা চাল।চার কাপ দুধ।৩/৪ কাপ গুঁড়।১/২ চা চামচ এলাচের গুঁড়া।দুই টেবিল চামচ ঘি।কাজুবাদাম ও কিশমিশ।জাফরান।

যেভাবে প্রস্তুত করবেন–প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্রে দুধ ঢেলে নিন। তারপর এতে ভেজা চাল ছেড়ে দিন। যতক্ষণ পর্যন্ত চাল নরম না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকুন।আরেকটি পাত্রে ঘি ঢালুন এবং কাজুবাদাম গুলোকে ভেজে নিন। দুধ ও চালের মিশ্রণের মাঝে এলাচের গুঁড়া এবং পরিমাণমতো গুঁড় ঢেলে দিন। তারপর ভালো করে নাড়ুন।খেয়াল রাখবেন পাত্রের নিচে যেন তলানী না জমে। অল্প আঁচে খানিক সময় জ্বাল দিন। রান্না হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে ক্ষীর ঠান্ডা করুন।ঠান্ডা হয়ে গেলে পরিবেশন পাত্রে ঢালুন এবং কিশমিশ ও জাফরান দিয়ে পরিবেশন করুন।

অল্প চর্বি যুক্ত চালের ক্ষীর–অল্প চর্বিযুক্ত চালের ক্ষীর তৈরির প্রস্তুতি নিতে লাগবে পনেরো মিনিট এবং রান্না করতে লাগবে এক ঘন্টা। মোট সময় লাগবে এক ঘন্টা পনেরো মিনিট।

চালের ক্ষীর তৈরি করতে যেসব উপকরণ লাগবে তা হলো–১/২ কাপ ভেজা চাল।এক লিটার অল্প চর্বিযুক্ত বা চর্বিহীন দুধ।১/২ কাপ বাদামী চিনি।এক চিমটি এলাচের গুঁড়া।দুই তিনটি সম্পূর্ণ এলাচ।গোলাপের পাপড়ি।

যেভাবে প্রস্তুত করবেন–একটি পরিষ্কার পাত্রে দুধ ঢেলে তা গরম করুন। দুই থেকে তিনটি বলক আসার পর দুধের মাঝে ভেজা চাল ছেড়ে দিন এবং চাল যতক্ষণ পর্যন্ত নরম না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত রান্না করতে থাকুন।তারপর এতে বাদামী চিনি এবং এলাচের গুঁড়া ছেড়ে দিন।তারপর দুই তিনবার নেড়ে অল্প আঁচে দশ মিনিট রান্না করুন। রান্না হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। তারপর এলাচ ও গোলাপের পাপড়ি দিয়ে দারুণভাবে পরিবেশন করুন।

চকোলেট রাইস ক্ষীর–নানা প্রকার ক্ষীর তৈরি করা যায়। চকোলেট দিয়ে মজাদার ক্ষীরের কথা হয়তো অনেকে শোনেনি। চকোলেট রাইস ক্ষীর অনেক মজাদার হয়।

এই ক্ষীর তৈরির জন্য যেসব উপকরণ লাগবে তা হলো–১/২ কাপ ভেজা বাসমতী চাল।দুই কাপ দুধ।১/২ টেবিল চামচ কোকোয়া পাউডার।দুই টেবিল চামচ তরল চকোলেট।দুই টেবিল চামচ চিনি।দুই টেবিল চামচ চকোলেট সিরাপ।এক চিমটি জয়ফল গুঁড়া।আমন্ড ও পেস্তাবাদাম।

যেভাবে প্রস্তুত করবেন–একটি পাত্রে দুধ ঢেলে তা গরম করে নিন। এর মাঝে কোকোয়া পাউডার ও তরল চকোলেট ঢেলে দিন। তারপর ভালো করে নাড়ুন।এই মিশ্রণের মাঝে ভেজা বাসমতী চাল ঢালুন এবং আবারও ভালো করে নাড়তে থাকুন।চাল নরম হয়ে গেলে এতে চকোলেট সিরাপ ঢালুন। রান্না হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। তারপর আমন্ড ও পেস্তাবাদাম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।