মজার রান্না ডেস্ক: সালাদ খেতে কে না ভালবাসে? স্বাস্থ্য সচেতন সকল মানুষ প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেয় সালাদকে। সালাদ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। কেউ কেউ শস্যের সালাদ বানায়, কেউ ফলের সালাদ খেতে ভালবাসে আবার কেউবা সবজির সালাদ খেতে ভালবাসে। বহু আগে থেকে টমেটো, গাজর ও শশার সালাদ প্রচলিত হয়ে আসছে।

এই সালাদ ছাড়াও আরো অনেক ধরনের সালাদ তৈরি করা যায়। সালাদ তৈরি করতে সময় খুব কম লাগে। এটি খুব স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার। যারা ওজন বেড়ে যাওয়া নিয়ে সর্বদা চিন্তিত থাকেন তারা নিঃসন্দেহে মজাদার সালাদ খেতে পারেন পেট ভরে। কেননা এতে কার্বোহাইড্রেট নেই যা শরীরকে মেদবহুল করে তুলবে। সালাদে রয়েছে উপকারী পুষ্টিউপাদান, ভিটামিন ও মিনারেলস। জেনে নিন তিনটি মজাদার সালাদের রেসিপি সম্পর্কে।

এগ ভেজিটেবল সালাদ

এগ সালাদ যেকোনো সময় তৈরি করে খাওয়া যাবে। অতিরিক্ত ওজন নিয়ে সচেতন যারা তারা বিকেল কিংবা রাতের খাবারের সাথে এগ সালাদ খেতে পারবেন।

এগ সালাদ বেশ স্বাস্থ্যকর খাবার। এগ ভেজিটেবল সালাদ তৈরিতে যেসব সবজি লাগবে তা হলো কুচি করা পেঁপে আধা কাপ, সেদ্ধ করা বাঁধাকপি আধা কাপ, টমেটো সস দুই টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, ধনেপাতা কুচি অল্প, সেদ্ধ ডিম একটি, মেয়নেজ এক চা চামচ, বাটার দুই টেবিল চামচ, মরিচের গুঁড়া আধা চা চামচ।

প্রস্তুত প্রণালী

প্রথমে সবগুলো সবজি বাটার মিশিয়ে গরম কড়াই বা তাওয়ায় একটু ভেজে নিন। ভাজা হয়ে গেলে অন্য পাত্রে তুলে রাখুন।

সেদ্ধ ডিম বাদে বাকি সবগুলো সবজি একসাথে মেয়নেজ দিয়ে মাখিয়ে নিন। মাখানো শেষে সেদ্ধ ডিম অর্ধেকটি কুচি করে ওখানে ছেড়ে দিন।

বাকি ডিমটুকু রিঙ এর মতো করে কেটে সালাদের উপরে ছেড়ে দিন। ব্যাস সহজেই তৈরি হয়ে যাবে মজাদার এগ সালাদ।

শস্য ও শিমের বীচির সালাদ

শস্য ও শিমের বীচির সালাদ খেতে বেশ মজার। রোজার সময় ইফতারে এই সালাদ রাখা যায়। শিশুরাও এটি খেতে ভীষণ ভালবাসে। এই সালাদ খুব ক্রিমি হয়। দেখতেও বেশ সুস্বাদু লাগে।

শস্য ও শিমের বীচির সালাদ তৈরি করতে যেসব উপকরণ লাগবে তা হলো সাদা শিমের বীচি ২০০ গ্রাম, লাল শিমের বীচি ১০০ গ্রাম, মটরশুটি সেদ্ধ ১০০ গ্রাম, সুইট কর্ন আধা কাপ, সেদ্ধ আলু একটি, কুচি করা গাজর একটি, মিশ্রিত সবজি ২০০ গ্রাম, রান্নার সোডা এক টেবিল চামচ।

ক্রিমি সসের জন্য উপাদান

ক্রিমি সসের জন্য লাগবে আধা কাপ ক্রিম, মেয়নেজ আধা কাপ, চিনি এক টেবিল চামচ, সাদা মরিচের গুঁড়া আধা চা চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী।

ক্রিমি সস তৈরির পদ্ধতি

একটি পাত্রে ক্রিম, মেয়নেজ, চিনি, সাদা মরিচের গুঁড়া এবং লবণ একত্রে মিশিয়ে নিন। ক্রিমি সস তৈরির জন্য আলাদা আলাদা ঝামেলার দরকার নেই।

সালাদ তৈরির পদ্ধতি

প্রথমে শীমের বীচিগুলো একটি পাত্রে নিয়ে দশ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। পানিতে কিছু পরিমাণ রান্নার সোডা ব্যবহার করুন।

তারপর দশ মিনিট রেখে দিন। তারপর একটি পাত্রে পানি ঢেলে সেখানে শিমের বীচিগুলো সেদ্ধ করুন।

ততক্ষণ পর্যন্ত সেদ্ধ করতে থাকুন যতক্ষণ পর্যন্ত পানি শুকিয়ে না যায়।

খেয়াল রাখবেন যেন ভালো করে সেদ্ধ হয়। এবার একটি বড় পাত্রে সেদ্ধ করা মটরশুটি, শীমের বীচি, সুইট কর্ন, আলু, গাজর ও ফল মিশিয়ে নিন।

তারপর এর মাঝে ক্রিমি সস ছেড়ে দিন। ব্যাস, এভাবে তৈরি হয়ে যাবে মজাদার ক্রিমি সালাদ। এ সালাদ থেকে বেশ ভিটামিন ও প্রোটিন পাওয়া যাবে।

তাই বাসায় শস্য ও শিমের বীচির সমন্বয়ে তৈরি সালাদ করে খেতে পারেন এবং আপনার সন্তানকেও খাওয়াতে পারেন।

আলু ও রসুনের সালাদ

আলু অনেক পরিচিত একটি সবজি। প্রায় সব তরকারিতে আলু ব্যবহার করা হয়। রসুন খুব পরিচিত একটি মশলা। রসুনের রয়েছে অনেক স্বাস্থ্যউপকারিতা। আলু ও রসুনের মিশেলে মজাদার সালাদ তৈরি করা যায়। আলু ও রসুনের সালাদ খেলে ওজন কমবে। সাধারণত ত্রিশ বছর বয়সের পরে নারীরা অতি সহজে দূর্বল হয়ে পড়ে। আলু ও রসুনের সালাদ খেলে পুষ্টি ফিরে পাবে। আলুতে রয়েছে উপকারী শর্করা।

এই সালাদ খেলে আপনি শুধু সুন্দর জীবন যাপণ করবেন না, আপনি পাবেন স্বাস্থ্যকর জীবন। এই সালাদ তৈরির মূল উপকরণ হলো আলু ও রসুন। এছাড়াও আরো লাগবে রসুন এক টেবিল চামচ, লেবুর রস এক টেবিল চামচ, দই দুই টেবিল চামচ, গুঁড়া দুধ এক টেবিল চামচ, সরিষা আধা চা চামচ, কালো মরিচ এক চিমটি। এছাড়া আরো লাগবে পালং শাক, সেদ্ধ করা আলু দুই কাপ, স্বাদ অনুযায়ী লবণ।

তৈরি পদ্ধতি

প্রথমে সবগুলো উপকরণ একত্রে মিশিয়ে নিন। তারপর হুইস্ক করুন। তারপর এটি রেফ্রিজারেটরে রেখে দিন।

কিছুক্ষণ পরে রেফ্রিজারেটর থেকে বের করে রাখুন। এবার সতেজ পালং শাক গুলো বরফের মধ্যে অন্তত পনেরো মিনিট রেখে দিন।

এখন সেদ্ধ আলুকে একটি চামচ দিয়ে ভালো করে চূর্ন করে নিন।

খেয়াল রাখবেন যেন দলা পাকিয়ে না যায়। তারপর আলু পনেরো মিনিটের মতো ফ্রিজে রেখে দিন।

তারপর সবগুলো উপাদান একত্রে মিশিয়ে যেমন দই, লেবুর রস, সরিষা, পালং, আলু মিশিয়ে মজাদার সালাদ তৈরি করতে পারেন।

স্বাদ অনুযায়ী লবণ যোগ করুন। এক চিমটি মরিচের গুঁড়া যোগ করুন। আলু ও রসুনের সালাদ তৈরি করে খেতে পারেন।

এটি ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

সূত্র: Food Tips