মজার রান্না ডেস্ক: রোজ রোজ একই নাস্তা ভালো লাগে না। তাই চাই ভিন্ন স্বাদের খাবার। নতুন খাবারের স্বাদ পেতে পারেন ওটসের কাটলেট এবং পেঁয়াজের পাটি সমোচা থেকে। জেনে নিন এ দুইটি রেসিপি সম্পর্কে।

ওটসের টিকা অথবা কাটলেট

এর আগে সবাই সবজির কাটলেট খেয়েছে। ওটসের কাটলেট হয়তো অনেকের কাছেই নতুন। হ্যাঁ বন্ধুরা, ওটস দিয়েও কাটলেট তৈরি করা যায় যা খেতে ভারি মজা। ওটস স্বাস্থ্যকর। এর পুষ্টিগুণও বেশি। অন্যান্য ফাস্টফুডের তুলনায় এর স্বাদ ভালো। ওটসমিলে রয়েছে ফাইবার বা খাদ্য আঁশ যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। এতে ক্ষতিকর শর্করা এবং স্টার্চ নেই।

ওটসের সঙ্গে দুধ বা দই মিশিয়ে খাওয়ার কথা অনেক পুষ্টিবীদরা বলে থাকেন। কেননা ওটসে প্রোটিন থাকে। তাছাড়া ডায়েটের জন্য এটি আদর্শ খাবার। কারণ ওটস খেলে ওজন বাড়ে না। আপনি যদি ডায়েটে থাকেন এবং সন্ধ্যার নাস্তায় চমৎকার কোনো খাবার খেতে চান তাহলে ওটসের কাটলেট খেতে পারেন। এই কাটলেট বানাতে পনেরো মিনিট প্রস্তুতির জন্য ব্যয় হবে এবং বারো মিনিট রান্নার জন্য ব্যয় হবে।

উপকরণ

ওটসের কাটলেট তৈরিতে যেসব উপকরণ লাগবে তা হলো

ওটস এক কাপ।

কোটাজ চিজ কুচি চার ভাগের এক কাপ।

গাজর কুচি চার ভাগের এক কাপ।

আলু আধা কাপ (সেদ্ধ এবং মাখানো)।

ধনে দুই টেবিল চামচ।

মরিচের গুঁড়া এক চা চামচ।

লেবুর রস এক চা চামচ।

আদা বাটা দেড় চা চামচ।

কাঁচা মরিচ বাটা দেড় চা চামচ।

গরম মসলা এক চা চামচ।

শুকনো আমের পাউডার এক চা চামচ।

লবণ স্বাদ অনুযায়ী।

অল্প চর্বিযুক্ত দুধ চার ভাগের এক কাপ।

তেল দেড় চা চামচ অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী।

তৈরি পদ্ধতি

একটি পাত্রে ওটস, পনির, গাজর, আলু, ধনে পাতা, লেবুর রস, আদা, কাঁচা মরিচের পেস্ট, গরম মসলা, লবণ নিন এবং সবগুলো উপাদান একত্রে মেশান।

একবারে ভালোভাবে না মিশলে আরেকবার মেশান।

মেশানো হয়ে গেলে গোল করে টিকা অথবা কাটলেট তৈরি করুন। কাটলেটগুলো দুধে ভিজিয়ে নিয়ে আবার অন্য পাত্রে রাখা ওটস দিয়ে মুড়িয়ে নিন।

এবার চুলায় আগুন জ্বালিয়ে পাত্রে তেল ঢেলে ডুবো তেলে কাটলেটগুলো ভেজে নিন। কাটলেটগুলো দুই পাশ দিয়ে ভালো করে ভাজা হলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন।

তবে বাদামী রঙ ধারণের আগে কাটলেটগুলো চুলা থেকে নামাবেন না। সবশেষে পুদিনা পাতা কিংবা ধনে পাতার চাটনি দিয়ে গরম গরম কাটলেটগুলো পরিবেশন করুন।

ব্যাস, অল্প পরিশ্রমে তৈরি হয়ে যাবে মজাদার কাটলেট।

পেঁয়াজের পাটি সমোচা

মচমচে সমোচার নাম মনে হলেই অনেকের জিভে জল চলে আসে। সমোচা খুব মুখরোচক খাবার। ছোট বড় সকলে সমোচা খেতে ভালবাসে। সমোচার ভেতর যে পুর থাকে তাও খুব মজাদার। রোজকার সন্ধ্যায় হালকা নাস্তায় আপনিও সমোচা খেতে পারেন। পরিবারের সকল সদস্যদের সাথে মিলে একসাথে সমোচা খাওয়ার সন্ধ্যাটি হতে পারে আপনাদের চমৎকার সন্ধ্যা।

তাছাড়া বাসায় আত্মীয় কিংবা বন্ধুবান্ধব এলেও পেঁয়াজের পাটি সমোচা দিয়ে আতিথেয়তা করতে পারেন। নতুন এই সমোচা খেয়ে আপনার বাসায় আগত অতিথিরা নিশ্চয় আপনার রান্নার প্রশংসা করবে। জেনে নিন পেঁয়াজের পাটি সমোচার রেসিপি সম্পর্কে।

উপকরণ

পেয়াজের পাটি সমোচা তৈরি করতে যেসব উপকরণ লাগবে তা হলো

পোহা এক কাপ।

পেঁয়াজ দুইটি।

লবণ স্বাদ অনুযায়ী।

সমোচা পাটি আটটি।

লাল মরিচের গুঁড়া এক চা চামচ।

জিরা এক চা চামচ।

ধনে পাতা কুচি এক চা চামচ।

জিরা গুঁড়া এক চা চামচ।

ভাজার জন্য তেল।

মিহি ময়দা দুই টেবিল চামচ।

চিনি এক চিমটি।

কাঁচা মরিচ কুচি চারটি।

চাট মসলা পাউডার এক চা চামচ।

তৈরি পদ্ধতি

একটি বড় পাত্র নিন। এতে পোহা ও পেঁয়াজ কুচি নিয়ে ভালো করে মেশান। তারপর এতে জিরা গুড়া, বীজ, লাল মরিচের গুঁড়া, ধনে পাতা কুচি, চাট মসলা, লবণ ও চিনি একত্রে মিশিয়ে নিন।

এই মিশ্রণটি চামচ দিয়ে না মিশিয়ে হাত দিয়ে মেশাবেন। নয়তো ভালো করে মিশবে না। তারপর আদা বাটা ব্যবহার করে আবারও মেশান

আরেকটি পাত্রে মিহি ময়দা নিন। পরিমাণমতো পানি দিয়ে ময়দা গুলিয়ে নিন। রুটির কাই এর মতো করে সুন্দর কাই করে নিন।

কারণ সমোচা বানাতে হলে কাই সুন্দর হতে হয়। এবার সমোচা পাটি নিন ছোট সমোচা বানানোর জন্য। এবার সমোচার ভেতরের পুর দিয়ে দিন।

তারপর সুন্দর করে সমোচা শেপ দিন। এভাবে সবগুলো সমোচা তৈরি করে ফেলুন।

সমোচা তৈরি হয়ে গেলে একটি পাত্রে তেল গরম করুন। তেল ভালো করে গরম হলে সেখানে সমোচা ছেড়ে দিন। ডুবো তেলে সমোচা ভাজবেন।

সবগুলো সমোচা মচমচে ভাজা হয়ে গেলে সুন্দর পাত্রে তুলে রাখবেন। তারপর সস অথবা চাটনির সঙ্গে সমোচাগুলো পরিবেশন করুন।

মাত্র আধা ঘন্টার মধ্যে মজাদার মচমচে সমোচা তৈরি হয়ে যাবে।

সূত্র: Food Tips