আলু পাকোড়া

উপকরণ :
২ টি সেদ্ধ আলু

আধা কাপ চাল ও ডাল একসাথে মেশানো

২ টি পেঁয়াজ কুচি

ঝাল বুঝে মরিচ কুচি

আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়ো

লবণ স্বাদমতো

ধনে পাতা কুচি

আধা চা চামচ আদা-রসুন বাটা

তেল ভাজার জন্য

পদ্ধতি:
চাল ডাল একসাথে মিশিয়ে ভিজিয়ে রাখুন গরম পানিতে আধা ঘণ্টা।

এরপর তা পিষে নিন।

একেবারে মিহি করতে হবে না, সাধারণ থাকলেই চলবে।

এবারে একটি বড় বোলে আলু সেদ্ধ হাতে ভেঙে নিন ভালো করে,

এরপর এর সাথে পিষে নেয়া চাল ডাল এবং অন্যান্য উপকরণ একসাথে ভালো করে মিশিয়ে নিন।

যদি খুব বেশী নরম মনে হয় তাহলে সামান্য ময়দা নিয়ে পাকোড়া তৈরির মতো শক্ত করে নিন যেনো তেলে দিলে ভেঙে না যায়।

প্যানে ডুবো তেলে ভাজার জন্য তেল গরম করুন এবং অল্প করে হাতে নিয়ে বড়ার মতো আকার দিয়ে তেলে দিয়ে দিন।

লক্ষ্য রাখবেন যেনো ভেঙে না যায়।

এরপর লালচে করে ভেজে তুলে নিন একটি কিচেন টিস্যুর উপরে।

ব্যস, এবারে পছন্দের সসের সাথে পরিবেশন করুন দারুণ সুস্বাদু এই ভিন্নধর্মী আলুর পাকোড়া।

স্পেশাল বেগুনী

উপকরণ :
লম্বা বেগুন – অর্ধেক করে কাটা (যতটা বানাবেন পাতলা করে পিস দিন),

ছোলার ডালের বেসন – ১ কাপ,

ময়দা – ১ টেবিল চামচ,

ধনে গুঁড়ো – ১/২ চা চামচ,

জিরা বাটা – ১/৩ চা চামচ,

আদা বাটা – ১/২ চা চামচ,

রসুন বাটা – ১/২ চা চামচ,

বেকিং পাউডার – ১/৪ চা চামচ,

কর্ণ ফ্লাওয়ার – ১/২ চা চামচ,

মরিচ গুঁড়ো – ১/২ চা চামচ,

হলুদ গুঁড়ো -১/২ চা চামচ,

লবণ – পরিমাণমতো,

পানি – পরিমাণমতো,

ডিম – ১ টা

তেল – ভাজার জন্য।

প্রস্তুত প্রণালি :

বেগুনী তৈরির ১ ঘণ্টা আগে বেসনের মিশ্রণ তৈরী করতে হবে।

প্রথমে বাটিতে বেসন নিয়ে বেগুন, পানি, ডিম ও তেল ছাড়া সব উপকরণ ভালভাবে মিশিয়ে নিন।

এবার পরিমাণমতো পানি দিয়ে মিশ্রণটা থকথকে করে মিশিয়ে নিন।

এবার মিশ্রণে ডিম ভেঙ্গে দিন।

এবার মিশ্রণটি ১ ঘন্টা রেখে দিন।

১ ঘন্টা পর এবার কাটা বেগুনগুলো ধুয়ে লম্বা-লম্বি ভাবে পাতলা করে কেটে সামান্য লবণ, চিনি, হলুদ আর মরিচের গুঁড়ো মেখে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন।

এতে বেগুনগুলো নরম হবে।

খেতে ভালো লাগবে।

এবার ভাজার জন্য কড়াইতে তেল গরম করুন।

তারপর পাতলা করে কেটে রাখা বেগুন বেসনের মিশ্রনে ভালভাবে চুবিয়ে ডুবো তেলে বাদামী করে ভাজুন।

হয়ে গেল ইফতারির মজাদার আইটেম বেগুনী।

সেমাই জর্দা

উপকরণঃ

কুলসন সেমাই – ১ প্যাকেট
(কুলসন সেমাই না পেলে, যেকোন দেশি সেমাই, যাকে অনেকে বাংলা সেমাই বলে থাকেন, একটু লালচে রং-এর খোলা সেমাইটাই আসলে বাংলা সেমাই নামে পরিচিত)

চিনি – ২ কাপ

নারকেল কুরানো – ১ কাপ

কিশমিশ – ২ টেবিল চামচ

চীনা বাদাম (ভাজা) – ৩ টেবিল চামচ

দারুচিনি – ৩ টুকরা

তেজপাতা – ২ টা

ঘি – ৪ টেবিল চামচ

পানি – ২ কাপ

লবন – পরিমাণমতো

প্রস্তুত প্রণালীঃ

চুলাতে কড়াইয়ে চাপিয়ে আগুনের আঁচে কড়াইয়ের ভেতরটা শুকাতে দিন।

এবার গরম কড়াইতে ঘি দিয়ে দিন।

ঘি সামান্য গরম হলে চিনি দিন ।

এবার ১ প্যাকেট সেমাইয়ের অর্ধেকটা এই গরম ঘিয়ে ঢেলে দিয়ে ১০/১৫ মিনিট নাড়ুন, সেমাইটা ঘিয়ে ভাজা হবে।

এবার এতে কুরানো নারকেল দিয়ে নাড়তে থাকুন,

কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে দিন আর চুলার আঁচ কমিয়ে নাড়তে থাকুন।

পানি শুকিয়ে আসলে বাদাম, কিশমিশ, তেজপাতা, দারুচিনি দিয়ে আরো মিনিট দশেক মৃদু জ্বালে দমে রাখুন ।

সেমাই ঝরঝরে হলে নামিয়ে পরিবেশণ করুন।

টিপসঃ
সেমাইটা সরাসরি ঘিয়ে না দিয়ে একটু প্রসেস করে নিতে পারেন, এতে সেমাইটা নরম হবে।

কি করতে হবে বলছি – আলাদা পাত্রে পানি গরম করে তাতে সেমাইটা মিনিট পাচেক সিদ্ধ হতে দিন,

এবার একটা ঝাঁঝরিতে গরম পানি সহ সিদ্ধ সেমাইটা ঢেলে দিন, পানি ঝরে যাবে।

এবার সাথে সাথেই সিদ্ধে গরম সেমাইটার উপর ঠান্ডা পানির ধারা দিন,

তাতে সেমাইটা ঝর-ঝরে হয়ে যাবে আর ঠান্ডা হবে।

এ অবস্থায় সেমাইটা পাতিলে গরম ঘিয়ে ঢেলে দিন।

এখান থেকে রেসিপি’র বাকী অংশ অনুসরণ করুন।

দই চিড়া

উপকরণ:

টক দই (২ কাপ),

দই চিড়া

চিড়া (১/২ কাপ),

পাকা কলা (স্কয়ার করে কাটা ১টি),

চিনি (প্রয়োজন মতো),

লবণ (প্রয়োজন মতো),

এলাচি গুঁড়া (১/৪ চা চামচ),

কিশমিশ (১ টেবিল চামচ)।

প্রণালী:

প্রথমে চিড়া ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।

এরপর বাটিতে টকদই, চিনি ও লবণ দিয়ে ভালোভাবে ফেটে নিতে হবে।

ফেটানো দইয়ে চিড়া মেখে ফ্রিজে রাখুন।

এক ঘণ্টা পর ফ্রিজ থেকে বের করে কলা, এলাচি গুঁড়া ও কিশমিশ ভালোভাবে মিশিয়ে পরিবেশন করুন।

আপেল ক্ষীর

উপকরন:

আপেল ১টি

ঘি অথবা বাটার ২ টেবিল চামচ

দুধ ৩ কাপ

কনডেন্স মিল্ক ৩ টেবিল চামচ

চিনি ২ টেবিল চামচ

এলাচ একটি

কাজুবাদাম ৪ থেকে ৫টি

পেস্তাবাদাম ৪ থেকে ৫টি

কাঠ বাদাম ৪ থেকে ৫টি

কিশমিশ ৪ থেকে ৫টি

গোলাপজল ৪ থেকে ৫ ফোটা

কেওড়া জল ৪ থেকে ৫ ফোটা

প্রণালী:
প্রথমে আপেল ভাল করে ধুয়ে খোসা ছিলে নিতে হবে।

এবার গ্রেটারে সুন্দর করে গ্রেটে করে নিতে হবে।

কড়াতে ঘি গরম করতে হবে।

ঘি গরম হলে কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম, কাঠ বাদাম আর কিশমিশ হালকা ভেজে নিতে হবে।

বাদাম আর কিশমিশ থেকে সুন্দর গন্ধ বের হলে ঘি থেকে উঠিয়ে একটা পাত্রে রাখতে হবে।

একটু ঠান্ডা হলে বাদামগুলো ছুরি দিয়ে হালকা ভেঙ্গে নিতে হবে।

এবার ঐ ঘিতে গ্রেট করা আপেল দিয়ে দিতে হবে। অল্প আঁচে ভাজতে হবে।

আপেল খুব দ্রুত পুড়ে যায়।

এজন্য একভাবে নাড়াচাড়া করতে হবে।

কিছুক্ষণ পর আপেল লাল হয়ে যাবে।

এইসময় আপেল থেকে খুব সুন্দর ক্যারামেল ক্যারামেল গন্ধ আসবে।

এই সময় চুলা বন্ধ করে দিতে হবে।

অন্য একটি হাড়িতে দুধ নিতে হবে।

দুধে এলাচ দিতে হবে।

দুধ জ্বল দিয়ে ঘন করতে হবে।

৩ কাপ দুধ জ্বাল হয়ে যখন ২ কাপ হবে তখন এতে কনডেন্স মিল্ক দিতে হবে।

আপনি যদি মিষ্টি বেশি পছন্দ করেন তবে এই সময় একটু চিনিও দিতে পারেন।

ভেজে রাখা বাদামও এই সময় দিয়ে দিতে হবে।

এরপর ভেজে রাখা আপেলও দিয়ে দিতে হবে।

পছন্দমত ঘনত্ব আসা পর্যন্ত অল্প আঁচে রান্না করতে হবে।

ক্ষীর হয়ে গেলে চুলা নিভিয়ে উপর থেকে গোলাপজল ও কেওড়া জল ছড়িয়ে হাড়িতে ঢাকনা দিয়ে দিতে হবে।

ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট।

ব্যস রেডি স্বাস্থ্যকর আপেল ক্ষীর।

উপর থেকে স্লাইস করা আপেল সাজিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার আপেল ক্ষীর।

আলু মটর সমুচা

উপকরণ:
স্প্রিং রোল শিট ১০টি
মৌরি ২ চা চামচ
মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ ২ টেবিল চামচ
পেঁয়াজ বাটা ১ চা চামচ
আদা বাটা ১ চা চামচ
রসুন বাটা ১ চা চামচ
হলুদ গুড়া ১/২ চা চামচ
লাল মরিচ গুড়া ১ চা চামচ
ভাজা জিরা গুড়া ১ চা চামচ
ভাজা ধনে গুড়া ১ চা চামচ
ভাজা গরম মহলা গুড়া ১ চা চামচ
আলু ১টি বড় সাইজের
মটরশুটি ১/২ কাপ
লবণ পরিমাণ মত
মিহি করে কুচি করে রাখা ধনে পাতা ২ চা চামচ
সয়াবিন তেল ২ টেবিল চামচ + ডুবো তেলে ভাজার জন্য
ময়দা ১/৪ কাপ
পানি অল্প পরিমাণ

প্রণালী:

আলু মটরশুটির পুর যেভাবে বানাতে হবে:
১ম ধাপ
প্রথমেই আলু ও মটরশুটি সিদ্ধ করে নিতে হবে আলাদা আলাদা করে।

এগুলো সিদ্ধ হয়ে গেলে একটা ঝাঝরিতে পানি ঝরাতে দিতে হবে।

আলু আর মটরশুটি একটু ঠান্ডা হয়ে গেলে একটা প্লেটে তুলে নিতে হবে।

হাত দিয়ে এই দুটি জিনিসই একটু ম্যাশ মত করে নিতে হবে।

একেবারে পুরোপুরি ভর্তা করে ফেলা যাবে না।

হালকা ম্যাশ করতে হবে যেন সমুচা খাওয়ার সময় অল্প অল্প মটরশুটি ও আলুর টুকরা গালে বাধে।

২য় ধাপ
এবার একটা ফ্রাইং প্যান নিতে হবে।

ফ্রাইং প্যানে ২ টেবিল চামচ সয়াবিন তে গরম করতে দিতে হবে।

সয়াবিন তেল গরম হয়ে গেলে এতে মৌরি ফোড়ন দিতে হবে।

মৌরি ফুতে উঠলে দেখবেন তা থেকে খুব সুন্দর একটা ফোড়নের গন্ধ বের হবে।

তখন সাদা তেলের মধ্যে মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ দিয়ে দিতে হবে।

লাল লা করে পেঁয়াজ কুচি ভাজতে থাকতে হবে।

পেঁয়াজ কুচি যখন ভাজা ভাজা হয়ে গোল্ডেন ব্রাউন কালার হয়ে যাবে তখন এর মধ্যে পেঁয়াজ বাটা দিয়ে দিতে হবে।

একই সাথে আদা বাটা ও রসুন বাটাও দিয়ে দিতে হবে।

খুব ভাল করে সব মশলা এক সাথে মিশিয়ে নিতে হবে।

সুন্দর করে কষাতে হবে।

প্রয়োজন হলে অল্প অল্প করে সামান্য পানি যোগ করা যেতে পারে।

মশলা গুলো যখন কষে তেল উপরে উঠে আসবে তখন গুড়া মশলা গুলো একে একে দিয়ে দিতে হবে।

প্রথমে হলুদ গুড়া আর লাল মরিচ গুড়া দিতে হবে।

এরপর ভাজা জিরা গুড়া ও ভাজা ধনে গুড়া দিতে হবে।

খুনতি দিয়ে নেড়ে চেড়ে খুব ভাল মত সব উপকরণ মিশিয়ে নিতে হবে।

ভাল মত সব মশলা কষানো হয়ে গেলে আগে থেকে সিদ্ধ করে হাফ ম্যাশ করা আলু দিয়ে দিতে হবে।

সেই সাথে সিদ্ধ করে হাফ ম্যাশ করা মটরশুটিও দিয়ে দিতে হবে।

খুব ভাল করে সব মশলার সাথে সিদ্ধ করা আলু ও মটর মিশিয়ে নিতে হবে।

এই বার লবণ ও সামান্য চিনি যোগ করতে হবে।

ভাল ভাবে আলু ও মটরের সাথে মিশিয়ে নিতে হবে।

প্রায় পাঁচ থেকে সাত ইনিট সব মশলার সাথে এই আলু ও মটর ভাজা ভাজা করতে হবে।

এরপর উপর থেকে ভাজা গরম মশলা গুড়া ও মিহি করে কুচি করে রাখা ধনে পাতা ছড়ীয়ে দিতে হবে।

ভাল করে মিশিয়ে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে।

রেডি আলু মটর পুর আলু মট্র সমুচা বানাবার জন্য।

সমুচা বানাবার পদ্ধতি
১ম ধাপ
একতা বাটিতে ময়দা নিতে হবে।

এর মধ্যে অল্প অল্প করে পানি দিয়ে একটা গোলা বানাতে হবে।

বেশ ঘন একটা গোলা বানিয়ে রেডি করে রাখতে হবে।

খুব বেশি ময়দার গোলা বানাবার দরকার নেই।

এটি শুধু স্প্রিং রোল শিট জোড়া দেবার কাজে আসবে।

২য় ধাপ
একটা একটা করে স্প্রিং রোল শিট নিতে হবে।

প্রত্যেকটি শিট লম্বালম্বি দুই ভাগ করে ছুরি দিয়ে কেটে নিতে হবে।

এরপর এক পিস স্প্রিং রোল শিট নিতে হবে।

এর এক মাথায় এক টেবিল চামচ পরিমাণ রেডি করে রাখা আলু মটর পুর দিতে হবে।

আগে থেকে রেডি করে রাখা ময়দার গোলা স্প্রিং রোল শিটের চারপাশে লাগিয়ে নিতে হবে।

এরপর সমুচার মত করে তিন কোণা করে এটি ভাজ করে নিতে হবে।

এই ভাবে সব কটি সমুচা রেডি করে নিতে হবে ভাজার আগে।

৩য় ধাপ
একটা বড় কড়াতে সয়াবিন তেল গরম করতে দিতে হবে।

সয়াবিন তেল মোটামুটি গরম হয়ে গেলে রেডি করে রাখা সমুচা গুলো তাতে ছেড়ে দিতে হবে।

মোটামুটি তিন মিনিট মত ভাজতে হবে।

এরপর সমুচা গুলো উলটে দিতে হবে।

সমুচা গুলো উলটে দেবার পর আরো দুই থেকে তিন মিনিট ভাজতে হবে।

চুলার জ্বাল এ সময় মোটামুটি মিডিয়াম থাকতে হবে।

আলু মটর সমুচা গুলো গোল্ডেন ব্রাউন করে ভাজা হয়ে গেলে তেল থেকে তুলে একটা প্লেটে টিস্যু পেপারের উপর রাখতে হবে।

যেকোন ডুবো তেলে ভাজা খাবার তেল থেকে তুলে প্রথমে একটা টিশ্যু পেপারের উপর রাখা উচিত।

এতে করে টিশ্যু পেপার সমুচা থেকে বাড়তি তল শুষে নেবে।

এরপর একটা সার্ভিং ডিশে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে মজাদার আলু মটর সমুচা।

কুমড়ো শাকের পাকোড়া

উপকরণ:

মিহি করে কুচি করে রাখা কুমড়ো শাক ১ কাপ

মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ ২ টেবিল চামচ

মিহি করে কুচি করে রাখা রসুন ১ চা চামচ

মিহি করে কুচি করে রাখা কাঁচা মরিচ ২ চা চামচ

আদা বাটা ১ চা চামচ

সরষে বাটা

ভাজা জিরা গুড়া ১ চা চামচ

ভাজা ধনে গুড়া ১/২ চা চামচ

কালো গোল মরিচ গুড়া ১ চা চামচ

জোয়ান গুড়া ১/২ চা চামচ

মৌরি গুড়া ১/২ চা চামচ

লবণ পরিমাণ মত

বেসন ১/৪ কাপ

চালের গুড়া ১ চা চামচ

বেকিং সোডা ১/২ চা চামচ

পানি সামান্য

সয়াবিন তেল ডুবো তেলে ভাজার জন্য

প্রণালী:
১ম ধাপ
প্রথমে কুমড়ো শাকের পাতা গুলো আলাদা করে নিতে হবে।

কুমড়ো শাকের ডাটা নেয়া যাবে না। শুধু পাতা নিতে হবে।

কুমড়ো শাকের পাতা গুলো খুব ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে।

এরপর খুব মিহি করে পাতা গুলো কুচি কুচি করে কেটে নিতে হবে।

কুমড়ো শাকের পাতা গুলো খুব মিহি করে কেটে নেয়াটা খুব জরুরী।

শাক যদি মোটা মোটা করে কাটা হয় তাহলে পাকোড়া বানাতে বেশি সময় লাগবে।

আর পাকোড়া খুব একটা মচমচে হবে না। নরম হয়ে যাবে।

২য় ধাপ
এই বার একটা বড় পাত্রে মিহি করে কুচি করে নেয়া কুমড় শাকের পাতা নিতে হবে।

এর মধ্যে একে একে মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ, মিহি কুচি রসুন আর মিহি করে কুচি করা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিতে হবে।

সেই সাথে আদা বাটা আর সরষে বাটাও দিয়ে দিতে হবে।

এরপর লবণ, ভাজা জিরা গুড়া, ভজা ধনে গুড়া আর কালো গোল মরিচ গুড়াও দিয়ে দিতে হবে।

এরপর এই কুমড়ো শাকের পাতা ও মশলার মিশ্রণের মধ্যে জোয়ান গুড়া আর মৌরি গুড়াও দিয়ে দিতে হবে।

এই বার হাত দিয়ে খুব ভাল করে এই সব কটি উপকরণ মেখে নিতে হবে।

দুই থেকে তিন মিনিট খুব ভাল ভাবে মাখাতে হবে।

দুই থেকে তিন মিনিট পর দেখবেন কুমড়ো শাকের পাতা ও অন্যান্য উপকরণ থেকে অল্প অল্প পানি বের হয়ে আসছে।

কুমড়ো শাকের পাতা ও অন্যান্য মশলার মিশ্রণ থেকে অল অল্প পানি বের হয়ে যখন এগুলো একটু নরম হয়ে আসবে তখন এর মধ্যে বেকিং সোডা ও চালের গুড়া দিতে হবে।

ভাল করে মেখে নিতে হবে।

আপনার কাছে যদি বেকিং সোডা না থাকে তবে আপনি বেকিং পাউডারও ব্যবহার করতে পারেন।

দুটি উপকরণই সম পরিমাণে ব্যবহার করা যায়।

এরপর অল্প অল্প করে বেসন যোগ করতে হবে।

একবারে সব বেসন যোগ করা যাবে না।

কারণ সব বেসন নাও লাগতে পারে।

অল্প অল্প করে বেসন যোগ করে মাখাতে হবে আর দেখতে হবে বাইন্ডিং ঠিক মত হচ্ছে কিনা।

পছন্দ মত বাইন্ডিং হয়ে গেলে আর বেসন যোগ করা যাবে না।

৩য় ধাপ
একটা কড়াতে সয়াবিন তেল গরম করতে দিতে হবে।

তেল গরম হপ্যে গেলে শাকের মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প করে নিতে হবে আর বল বানিয়ে তেলে ছেড়ে দিতে হবে।

দুই থেকে তিন মিনিট এক পিঠ ভাজতে হবে।

যেহেতু শাক কাঁচা তাই চুলার জ্বাল খুব বেশি বাড়ানো যাবে না।

মিডিয়াম রাখতে হবে।

তা না হলে শাকের পাকোড়ার বাইরে মচমচে হবে কিন্তু ভিতর কাঁচা থেকে যাবে।

দুই থেকে তিন মিনিট পর যখন এক পিঠ ভাজা হয়ে যাবে তখন পাকোড়া গুলো উলটে দিতে হবে।

একই ভাবে মিডীয়াম আঁচে আরো দুই থেকে তিন মিনিট কুমড়ো শাকের পাকোড়া গুলো ভেজে নিতে হবে।

তারপর একটা প্লেটে টিস্যু পেপারের উপর কুমড়ো শাকের পাকোড়া গুলো তুলে নিতে হবে।

আপনার পছন্দ মত যে কোন সস কিংবা চাটোনির সাথে সার্ভ করতে পারবেন মজাদার মচমচে আর ভিন্ন স্বাদের এই কুমড়ো শাকের পাকোড়া।

আমি নিজে অবশ্য ছোলা আর সালাদের সাথেই এই কুমড়ো শাকের পাকোড়া খেতে বেশি পছন্দ করি।

আর আপনি চাইলে কিন্তু গরম গরম সাদা ভাতের সাথেও এই কুমড়ো শাকের পাকোড়া খেয়ে দেখতে পারেন। যথেষ্ঠ টেস্টি লাগে।

জিলাপী

উপকরণ:

ময়দা ১ কাপ,

গোলাপজল ১ টেবিল চামচ,

চিনি ১ কাপ ,

সয়াবিন তেল ১ কাপ।

প্রণালী:

১। ময়দা আধা কাপ পানিতে ঘন করে করে গুলে শীতের দিনে দুদিন এবং গরমের দিনে দেড়দিন ঢেকে রাখ।

২। জিলাপী তৈরি করার আগে চিনিতে আধা কাপ পানি ও এক চা চামচ দুধ দিয়ে চুলায় দাও।

ফুটে উঠলে ময়লা কেটে ছেঁকে নাও। গোলাপজল বা কেওড়া মিশিয়ে রাখ।

৩। ময়দার উপরে দুএকটা বুদবুদ উঠলে জিলাপী তৈরির উপযোগী হবে।

উপরের জমানো পানি ফেলে ময়দা ফেটে নাও।

ইচ্ছা হলে সামান্য লেমন হয়েলো কালার রং দিয়ে ফেটতে পার।

৪। রুমালের মত চার কোণা মোটা কাপড়ের মাঝখানে ছোট ছিদ্র কর।

কাপড় ভিজিয়ে নিংড়ে নাও।

৫। কড়াইয়ে ১কাপ সয়াবিন তেল গরম কর।

কাপড়ে ময়দার গোলা নিয়ে গরম তেলের উপর জিলাপী ছাড়।

প্রথমে একবার ঘুরাও, যে প্যাঁচ কড়াইয়ে পড়বে তার চারপাশে লাগিয়ে আর একবার ঘুরাও এবং তৃতীয়বারে জিলাপীর মাঝখানে হাত সামনের দিকে নিয়ে আস,

হাত না তুলে আর একটা জিলাপীর প্যাঁচ আরম্ভ কর।

এভাবে আড়াই প্যাঁচের জিলাপী মচমচে করে ভাজবে।

কম আঁচে ভালভাবে হালকা বাদামী রং করে ভেজে সিরায় ছাড়।

৬। সিরায় জিলাপী ডুবিয়ে দাও।

জিলাপী ৮-১০ মিনিট ডুবিয়ে রেখে সিরা থেকে তুলে থালায় সাজিয়ে রাখ।

বুট পাকোড়া

উপকরণ:
ছোলা সিদ্ধ ১ কাপ,

মটর ডাল ১ কাপ,

অ্যাংকর ডাল পৌনে ১ কাপ,

পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ,

আদা বাটা ২ চা চামচ,

রসুন বাটা ১ চা চামচ,

সয়াবিন তেল পরিমাণমতো,

কাঁচা মরিচ কুচি ১ চা চামচ,

ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ,

হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ,

মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ,

লবণ স্বাদমতো।

যেভাবে তৈরি করবেন:

১. ছোলা সিদ্ধ করে আধাভাঙা করে নিন। ডাল সারা রাত ভিজিয়ে রেখে বেটে নিন।

২. ছোলার সঙ্গে ডাল, পেঁয়াজ কুচি, আদা বাটা, রসুন বাটা, লবণ, কাঁচা মরিচ কুচি, ধনেপাতা কুচি, মরিচ গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া একসঙ্গে ভালো করে মেখে ১০ মিনিট রেখে দিন।

৩. কড়াইয়ে তেল গরম করে গোল করে পাকোড়ার মতো ভাজুন।

ঝিঙের পাকোড়া

উপকরণ:

▪মাঝারি আকারে র ঝিঙে ১টি,

▪১/২কাপ বেসন,

▪২টেবিল চামচ চালের গুঁড়া,

▪১চা-চামচ চিলি ফ্লেক্স,

▪১চিমটি বেকিং সোডা,

▪লবন স্বাদ মত,

▪পানি প্রয়োজন মত,

প্রণালী:
কচি ঝিঙে খোসা সহ ধুয়ে নিতে হবে তিতা হলে সেটা বাদ দিতে হবে।

ধারালো অংশ ফেলে খোসা সহ পাতলা গোল গোল করে কেটে পানি শুকিয়ে নিতে হবে,

এবার একটি বাটিতে বেসন, চালের গুড়ো, চিলি ফ্লেক্স, বেকিং সোডা, স্বাদ মত লবন, ঠান্ডা পানি দিয়ে ভাল করে গুলে ঘন মিশ্রন তৈরি করুন।

এরপর প্যানে তেল গরম করে ঝিঙের টুকরাগুলো মিশ্রনটিতে ডুবিয়ে ডুবো তেলে সোনালি করে ভেজে তুলুন।

চিলি সস অথবা টমেটো সস দিয়ে গরম গরম পবিবেশন করুন।

দই বড়া

উপকরণ:

১ কাপ মাষকলাই ডাল

এক চিমটি বেকিং সোডা

তেল

২ চিমটি হিং

লবণ

২-৩ কাপ টকদই

২ টেবিল চামচ চিনি

২ টেবিল চামচ টক মিষ্টি চাটনি

ধনেপাতার চাটনি

জিরাগুড়ো

লাল মরিচ গুঁড়ো

লবণ

প্রণালী:

১। প্রথমে মাষকলাইয়ের ডাল ভালো করে ধুয়ে সারারাত অথবা ৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।

২। মাষকলাই ডালের পানি ফেলে দিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন।

লক্ষ্য রাখবেন ব্লেন্ড করার সময় খুব বেশি পানি দেবেন না।

আপনি চাইলে এর সাথে বেকিংসোডা মেশাতে পারেন।

ব্যাটারটা যেন ঘন হয়।

ব্যাটার ভালোভাবে তৈরি হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য পানির মধ্যে সামান্য ব্যাটার ছেড়ে দিন।

যদি ভেসে উঠে তবে বুঝতে পারবেন দই বড়া তৈরির জন্য পারফেক্ট ব্যাটার তৈরি হয়েছে।

৩। প্যানে তেল গরম হয়ে এলে এতে বড়ার আকৃতি করে ব্যাটার দিয়ে দিন।

বাদামী রং হয়ে এলে নামিয়ে ফেলুন। বড়ার তেলে দেওয়ার আগে ভালো করে ব্যাটার ফেটে নেবেন।

৪। আরেকটি প্যান তেল দিয়ে মাঝারি আঁচে গরম করতে দিন। এতে হিং দিয়ে দিন। তেলে হিং ছিটে এলে নামিয়ে ফেলুন।

৫। একটি পাত্রে পানি এবং লবণ মিশিয়ে নিন। এতে বড়াগুলো ডুবিয়ে রাখুন ১৫ থেকে ২০ মিনিট।

৬। অন্য একটি পাত্রে টকদই, চিনি এবং লবণ একসাথে ভালো করে ফাটুন।

৭। ২০ মিনিট পর বড়াগুলো নরম হয়ে এলে পানি ঝড়িয়ে টকদইয়ের মাঝে বড়াগুলো দিয়ে দিন। টকদইয়ের মধ্যে বড়াগুলো কিছুক্ষণ রাখুন।

৮। এবার পরিবেশন প্লেটে দই এবং বড়া দিয়ে তার উপর টক-মিষ্টি চাটনি, ধনেপাতার চাটনি, মরিচ গুঁড়ো,জিরা গুঁড়ো এবং লবণ ছিটিয়ে দিন।

৯। ব্যস তৈরি হয়ে গেলো পারফেক্ট দই বড়া।

গ্রিলড চিকেন

উপকরণ:
মুরগির লেগ পিস (ড্রামস্টিক),

টক দই আধা কাপ,

আদা বাটা এক টেবিল চামচ,

রসুন বাটা এক চা চামচ,

লাল মরিচের গুঁড়া দুই চা চামচ,

ভিনেগার দুই টেবিল চামচ,

লবণ স্বাদমতো,

সরিষার তেল আধা কাপ,

মধু এক টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালী:

মুরগির টুকরোগুলো ভালোভাবে ধুয়ে টক দইয়ের সাথে, আদা, রসুন, মরিচের গুঁড়া, ভিনেগার, লবণ ও চিনি একসাথে মিশিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন।

এবার একটি ফ্রাই প্যানে মাংসের টুকরোগুলো ভালো করে ভেজে নিন।

এরপর প্রতিটি ড্রামস্টিক চুলার আগুনে এক মিনিট পুড়িয়ে নিন।

সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবশন করুন।

চিকেন মাফিন

উপকরণ:

১০০-১২০ গ্রাম হাড়ছাড়া মুরগির কিমা

২/৩ কাপ পনির কুচি

২/৩ কাপ ময়দা

২/৩ কাপ টমেটো কুচি

১/৩ কাপ দুধ

তেল

১টি ডিম

১-২ চা চামচ পার্সলি

লবণ

গোলমরিচের গুঁড়ো

প্রণালী:

১। প্রথমে ওভেন ৪০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট অথবা ২০৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে প্রি হিট করে নিন।

২। একটি পাত্রে ময়দা, লবণ, গোলমরিচের গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে নিন।

৩। আরেকটি পাত্রে ডিম ভালো করে ফাটুন।

এবার ডিমের সাথে মুরগির টুকরো, পনির, তেল, পার্সলি পাতা কুচি এবং দুধ দিয়ে ভালো করে মেশান।

এতে টমেটো কুচি দিয়ে দিন।

৪। ময়দা এবং মুরগির মিশ্রণ একসাথে মিশিয়ে নিন।

এরসাথে লবণ, গোলমরিচের গুঁড়ো দিয়ে মেশান।

৫। মাফিন ট্রেতে কিছুটা তেল মাখিয়ে রাখুন।

ময়দা, মুরগির মিশ্রণটি ট্রেতে ঢেলে দিন।

৬। মাফিনের উপরে টমেটো কুচি এবং পনির কুচি দিয়ে দিন।

৭। এটি প্রি হিট করা ওভেনে ২০ থেকে ২৫ মিনিট বেক করুন।

৮। ২৫ মিনিট পর পেয়ে যান দারুন স্বাদের চিকেন মাফিন।