মজার রান্না ডেস্ক: এখন কাঁচা বাজারে প্রচুর পরিমাণে কাঁচা আম পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই কাঁচা আম কিন্তু খুব বেশি দিন যাবত বাজারে পাওয়া যাবে না। আর হয়ত অল্প কিছু দিন আপনি এই কাঁচা আম বাজারে কিনতে পাবেন। তাই এখনই সময় এই আমচুড় পাউডার বানিয়ে নেয়া।

আমচুড় পাউডার আমাদ্র দেশে খুব বেশি পরিচিত কোন মশলা না। আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়ত এই নামটা প্রথম বার শুনে থাকবেন। আসলে আমচুড় পাউডার হচ্ছে শুকনা কাঁচা আম এর গুড়া। এটি বেশ টক টক স্বাদ এর হয়ে থাকে। বিভিন খাবার এর মধ্যে টক স্বাদ যোগ করার জন্য মশলা হিসেবে এই আমচুড় পাউডার যোগ করা যেতে পারে। এই আমচুড় পাউডার ঘরে বানানো খুবই সহজ একটা কাজ। আমি চাইলেই বানাতে পারবেন। তবে এটি ঘরে বসে বানিয়ে নেবার সময় বেশ কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখা উচিত।

বিশেষ করে আমচুড় পাউডার বানাবার জন্য টানা তিন দিন থেকে চার দিন কড়া রোদ এর দরকার হয়। তাই ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবার আগেই যতটা দ্রুত সম্ভব এই আমচুড় পাউডার বানিয়ে রেখে দিতে হবে।

আমচুড় পাউডার বানাবার উপকরণ

আমচুড় পাউডার বানাবার জন্য আমাদের মাত্র একটি উপকরণ এর দরকার হবে। আর সেই উপকরণ। আর সেই উপকরণটি হচ্ছে কাঁচা আম। তবে এই মশলা বানাবার জন্য কাঁচা আম সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে একটা ব্যাপারে একটু খেয়াল রাখতে হবে। সেটা হচ্ছে আমচুড় পাউদার বানাবার জন্য আম যত বেশি কাঁচা ও টক হবে ততই ভাল। বাজারে এখন কাঁচা আম এর সাথে সাথে কাঁচা মিঠে আমও পাওয়া যাচ্ছে। আমচুড় পাউডার বানাবার জন্য কখনোই কাঁচা মিঠে আম ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে করে আপনি কখনোই আমচুড় পাউডার থেকে আপনার পছন্দনীয় টক স্বাদতা পাবেন না। তাই অবশ্যই বাজার থেকে সম্পূর্ণ কাঁচা ও টক আম নিয়ে আসতে হবে। আপনার সারা বছরের জন্য যত টুকু আমচুড় পাউডার প্রয়োজন হতে পারে সেই পরিমাণ মত কাঁচা আম বাজার থেকে কিনে আনতে হবে। যে কোন খাবারে আমচুড় পাউডার খুব কম পরিমাণে ব্যবহার করতে হয়। তাই এটি খুব বেশি পরিমাণে বানাবার দরকার হয় না।

আপনি যদি এক কেজি পরিমাণ কাঁচা আম কিনে থাকেন তবে এটি শুকিয়ে আমচুড় পাউডার বানাবার পর মোটামুটি এক কাপ মত পাওয়া যাবে। তাই আপনার কত টুকু লাগবে সেই পরিমাণ বুঝে নিয়ে এই মশলাটি বানাবার জন্য বাজার থেকে পরিমাণ মত কাঁচা ও টক আম সগ্রহ করতে হবে।

আমচুড় পাউডার যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

১ম ধাপ

আমচুড় পাউডার বানাবার জন্য প্রথমেই কাঁচা আম গুলো ভাল করে ধুয়ে পরিস্কার করে নিতে হবে। এর পরে কাঁচা আম্ গুলো থেকে খোসা ছিলে নিতে হবে। কাঁচা আম গুলো থেকে খোসা ছাড়ানো হয়ে গেলে এই গুলি একটা পাত্রে বেশি করে পানি নিয়ে তাতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। খুব বেশি সময় ধরে ভিজিয়ে রাখার দরকার নেই। মোটামুটী বিশ মিনিট থেকে ২৫ মিনিট সময় ধরে ভিজিয়ে রাখলেই হবে। আসলে খুব বেশি কাঁচা ও টক আম এর মধ্যে বেশ খানিকটা পরিমাণে আঠালো কশ জাতীয় পদার্থ থাকে। যে কোন পদ্ধতিতে কাঁচা আম সংরক্ষণ করতে গেলে তাই আগে এটি থেকে খোসা ছিলে পানি এর মধ্যে কিছু সময় ভিজিয়ে রাখতে হয়। এতে করে কাঁচা আম এর মধ্যে থাকা কষ পানিতে মিশে বের হয়ে যায়। এর পরে কাঁচা আম গুলো হাত দিয়ে খুব ভাল ভাবে কচলে ধুয়ে নিতে হবে। এতে করে কাঁচা আম এর গায়ে লেগে থাকা সব কষ ধুয়ে পরিস্কার হয়ে যাবে।

২য় ধাপ

এই বার আম গুলো একটা ঝাঝরির মধ্যে কিছু সময় রেখে দিতে হবে। এতে করে আমের মধ্যে থাকা বাড়তি পানি শুকিয়ে যাবে। এর পরে আম গুলো খুব পাতল পাতলা করে কেটে নিতে হবে। এই পাতলা করে কেটা নেয়া আম এর তুকরা গুলো একটা বড় প্লেট কিংবা কুলার উপর সুন্দর করে বিছিয়ে দিতে হবে। তারপর এগুলো রোদে শুকাএ দিতে হবে। খুব বেশি দিন ধরে রোদে শুকানোর দরকার নেই। মোটামুটী দুই দিন থেকে তিন দিন রোদে দিলেই হবে।

৩য় ধাপ

কাঁচা আম এর টুকরা গুলো রোদে হুকিয়ে একদম শক্ত হয়ে যাবে। তখন এই গুলো একটা ব্লেন্ডারে মিহি করে উড়া করে নিতে হবে। ব্যাস রেডি আপনার জন্য আমচুড় পাউডার। মাসে এক বার থেকে দুই বার আধা ঘন্তার জন্য এই আমচুড় পাউডার রোদে দিতে হবে। তাহলেই এটি বছর জুড়ে ভাল থাকবে।

 

 

সূত্র: চটপট