fbpx

জেনে নিন আম থেকে ফরমালিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল দূর করার উপায়

মজার রান্না ডেস্ক: এখন সময় আমের। সবাই গণহারে পাকা আম কেনেন এই সময়টায়। আর এই সুযোগটাই নেয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। আম পাকার সময় না হলেও বেশী মুনাফা লাভ করার আশায় কাঁচা আমকেই কার্বাইড নামক রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে পাকানোর ব্যবস্থা করেন তারা, পরে ফরমালিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে এই আম বিক্রি করেন বিভিন্ন বাজারে। যে ফাঁদে পা দিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত আম কিনেন।

ফরমালিন কি?
ফরমালিন (Formalin) হচ্ছে ফরমালডিহাইড (Formaldehyde) এর একটি পলিমার। এটি দেখতে অনেকটা সাদা পাউডারের মত। পানিতে খুব সহজেই মিশে যায়। ৩০-৪০% পানির সাথে মিশালে একে ফরমালিন বলা যেতে পারে। এটি সাধারণত মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়াও ফরমালিনে মিথানল নামক কেমিক্যাল থাকে যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

আম তাজা রাখার জন্য কি শুধু ফরমালিন মেশানো হয়ে থাকে?
এই বিষয়ে আমাদের একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে। অনেকে মনে করেন শাক সবজি, ফলমূল বা মাছ তাযা রাখতে শুধুমাত্র ফরমালিন দেওয়া হয়। আসলে কিন্তু তা নয়! ফরমালিন এক প্রকার কেমিক্যাল। এই রকম আরও অনেক ধরণের কেমিক্যাল আছে যা দিয়ে খাদ্য সামগ্রী তাজা রাখা যায়। এর মধ্যে কোন কোনটা আছে ফরমালিনের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। এই সমস্ত ক্ষতিকর রাসায়নিকের মধ্যে রয়েছে- আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, লেড, ইকোলাই, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, পোড়া মবিল, রং, সোডিয়াম কার্বাইড, ইথাইলিন, হাইড্রোজ, ডিডিটি ইত্যাদি।ফলমূল- শাক সব্জি ভালো রাখার জন্য এতে যে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়, তাও আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এছাড়াও, আম সহ অন্যান্য অপরিপক্ক ফল পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড নামক এক ধরণের রাসায়নিক দেওয়া হয়। ফলে যেকোনো ফল পেকে যায় এবং উজ্জ্বল বর্ণ ধারণ করে। এই ধরণের ফল দেখতে যতই সুন্দর হোক আর খেতে যতই সুস্বাদু হোক না কেন, স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

কিন্তু কেউ যদি কেমিক্যাল যুক্ত আম কিনে ফেলে, তাহলে উপায়?
এমনই এক সমস্যায় পড়েছেন রাশেদা আক্তার। বাজার থেকে আম কিনে নিয়ে এসে আম খাওয়ার সময় দেখেন আম প্রচণ্ড বিস্বাদ। রাশেদা আক্তারের বুঝতে আর বাকী রইলো না, ফর্মালিন মিশ্রিত আম কিনে এনেছেন যে। এখন কি করার? কিভাবে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাবেন তিনি? সমাধান নিয়ে আসলেন পাশের বাসার ভাবী মরিয়ম আক্তার। আম থেকে ফরমালিন দূর করার উপায় বাতলে দিলেন তিনি। এই উপায়ে অন্যান্য সব ধরণের কেমিকেলও দূর করা যায়! কি সে উপায়? আসুন দেখে নিই!

আম থেকে ফরমালিন দূর করার উপায়
অনেকেরই ধারণা ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিশুদ্ধ পানিতে ডুবিয়ে রাখলে খাদ্যদ্রব্য থেকে ফরমালিন দূর হয় বা কমে যায়। প্রকৃতপক্ষে, এটি অতটা কার্যকর নয়। এর চেয়ে ভালো পদ্ধতি গুলো হচ্ছে-

পদ্ধতিঃ ১— কাঁচা অবস্থায় ফলমূল বা শাকসবজি থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ও ফরমালিন দূর করার উপায় হচ্ছে- পানির কল ছেড়ে তার নিচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দেওয়া। এর ফলে আস্তে আস্তে খাদ্য থেকে ক্ষতিকর কেমিক্যালের প্রভাব কমতে থাকবে। কারণ, কাঁচা সবজি ও ফলের ত্বকে অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র রয়েছে। পানিতে ডুবিয়ে রাখলে ফরমালিন আরও ভালোভাবে খাবারে মিশে যেতে পারে। কিন্তু পানির কলের নিচে রাখলে সেটা ভেতরে না ঢুকে পানির চাপে বাইরে বেরিয়ে যাবে।
পদ্ধতিঃ ২— ভিনেগার বা লেবুর রসে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখেও ফল থেকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল কিছুটা দূর করা সম্ভব। ভিনেগার/সিরকা ও পানির মিশ্রনে (পানিতে ১০% আয়তন অনুযায়ী) ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯৮ % ভাগ কেমিক্যাল দূর হয়। এক লিটার পানিতে এক কাপ ভিনেগার মিশিয়ে শাকসবজি, ফলমুল কিংবা মাছ ১৫ মিনিট রাখুন এবং এরপর ধুয়ে নিন ভালো করে। ব্যাস! সব খাবার এখন ফরমালিন, কার্বাইড, কীটনাশক সহ যে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক মুক্ত।

আগুনের তাপে ফরমালিন অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই রান্নার আগে ফরমালিন কমানোর পদ্ধতি ব্যবহার করে রান্না করলে খাবার পুরোপুরি ফরমালিন মুক্ত করা সম্ভব।তবে কাঁচা খাওয়া হয় এমন সবজি ও ফল অবশ্যই উপরোক্ত পদ্ধতিতে ভালোভাবে ফরমালিন মুক্ত করে নিতে হবে। তা না হলে নানান রকম রোগের সম্ভাবনা থেকেই যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close