ঘরেই তৈরি করুন ফুড কালার - Mojar Ranna ঘরেই তৈরি করুন ফুড কালার - Mojar Ranna

ঘরেই তৈরি করুন ফুড কালার

;
  • প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১:০৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৪ বছর আগে

মজার রান্না ডেস্ক: বিভিন্ন খাবার ও ডেজার্ট আইটেমে হরহামেশাই আমরা ব্যবহার করে থাকি ফুড কালার। পোলাও, সবজির আইটেম, পুডিং, কেক, জর্দা, পায়েশ ইত্যাদিতে সচরাচর বাজারের যে কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো মূলত পেট্রোলিয়াম বেজড।

বাজারের কেমিক্যালযুক্ত ফুড কালারের বদলে খাবারে ব্যবহার করতে পারেন ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক রং। বিজ্ঞানীরা কিছু কৃত্রিম রংকে খাদ্য ও পানীয়তে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছেন। এগুলোকে বলে ‘পারমিটেড ফুড কালার’।

বিজ্ঞানীদের অনুমোদিত রং বা পারমিটেড ফুড কালারগুলো নিয়েও সমস্যা আছে। রংগুলো বিভিন্নভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, তবে তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর। কিন্তু আমাদের বাজারের খাদ্য ও পানীয়তে আমরা যে সব রং পাচ্ছি সেগুলো পারমিটেড ফুড কালার নয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার লোভে পারমিটেড ফুড কালারের বদলে সস্তা ‘টেক্সটাইল কালার’ সেখানে বসিয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপনের কারণে সরল বিশ্বাসে নিরাপদ মনে করে আপনি সে ক্ষতিকর টেক্সটাইল রং মেশানো খাবার নিজে কিনে খাচ্ছেন, বাচ্চাদেরও মুখে তুলে দিচ্ছেন। অথচ এই টেক্সটাইল কালার আপনার পাকস্থলিতে প্রবেশের কথা ছিল না। ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভ ক্ষতিকর এসব রং কাপড়ের কারখানা থেকে আপনার খাবারে নিয়ে এসেছে।

টেক্সটাইল কালার আমাদের দেহে প্রবেশের পর শরীরের মেটাবোলিজম বা বিপাক ক্রিয়াতেও নষ্ট না হয়ে দীর্ঘদিন শরীরে থেকে ক্রমাগত প্রাণঘাতী ক্ষতি করতেই থাকে। টেক্সটাইল কালার খাওয়ার পর শরীরে বিভিন্ন রকম এলার্জিক প্রতিক্রিয়া, হাঁপানীর তীব্রতা বেড়ে যাওয়া, যাদের হাঁপানী নেই তাদের হাঁপানী হওয়া, পাকস্থলিতে হজমের গোলযোগ, পেটে তীব্র গ্যাস, পেপটিক আলসার, অস্থিমজ্জায় গোলযোগের কারণে রক্তকণিকার অস্বাভাবিকতা, লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সার, কিডনীর অকার্যকারিতাসহ নানাবিধ দুরারোগ্য অসুখ ও জীবনহানী ঘটতে পারে।

খাদ্য ও পানীয়ে রং ব্যবহারে খাদ্যের স্বাদ বা পুষ্টিমান কোনটাই বাড়ে না। তাই রঙিন খাবারের প্রতি আকর্ষণের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার স্বার্থেই। সবচেয়ে ভাল হলো কৃত্রিম রং দিয়ে রাঙানো যে কোন খাদ্য ও পানীয় পরিহার করা। নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরা রক্ষার এটি সবচেয়ে ভাল পথ। কারণ শরীরটা আপনার, এর ভালমন্দ দেখার দায়িত্বও আপনার।

জেনে নিন কীভাবে ফুড কালার তৈরি করবেন নিজেই-

বাজারে এখন বিটরুট ও বেদানা পাওয়া যায়। বিটরুট ও বেদানার রস দিয়ে টুকটুকে লাল রঙ তৈরি করা সম্ভব। আবার বিটরুট ও চেরির রস দিয়ে তৈরি করা যাবে প্রাকৃতিক গোলাপি রঙ। জর্দায় যে কমলা রঙ ব্যবহার করা হয়, তা তৈরি করা যাবে কমলালেবু ও গাজর রস করে। এতে খাবারে যোগ হবে বাড়তি স্বাদ। ঝালজাতীয় খাবারে এমনিতেই হলুদ বাটা বা গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি ঝাল ও মিষ্টি খাবার দুটোতেই হলুদাভ রঙ এনে দেবে জাফরান।

প্রাকৃতিক উপায়ে সবুজ রঙ তৈরি করা খুবই সহজ। গ্রিন টি, ধনে পাতার রস, পালংশাকের রস ইত্যাদি সবুজ উপাদান দিয়ে ঘরে বসেই বানিয়ে ফেলা সম্ভব ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফুড কালার।

কেক বা পুডিংয়ে বেগুনি রঙ ব্যবহার করতে চাইলে বেগুনি খোসার মিষ্টি আলু, ব্লুবেরি ও কালো আঙুর ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া কেক এ চকোলেট রঙ আনতে সাধারণত ব্যবহূত হয় কোকো পাউডার। ব্যবহার করা যায় কফি, ব্ল্যাক টি, দারুচিনিও।

যদিও ঘরে তৈরি এসব রঙ খুব বেশি গাঢ় আভা দেয় না, কিন্তু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রাকৃতিক এসব ফুড কালারই ভরসাযোগ্য।

বিটরুটের তৈরি ফুড কালার :
ফুড কালার তৈরি জন্য প্রয়োজন হবে বিটরুট। এটি কিনতে পারবেন যেকোনো সুপার শপ অথবা বাজেরে। বিটরুটের খোসা চফেলে একদম ছোট ছোট করে কুচি করে নিন। স্টিলের একটি ছড়ানো পাত্রে বিটরুট কুচি নিয়ে কড়া রোদে শুকান। কয়েকদিন একটানা রোদে রাখতে হবে। শুকিয়ে ঝরঝরে হয়ে গেলে গ্রিন্ডারে গ্রিন্ড করে পাউডার বানিয়ে ফেলুন।

বিটরুট গুঁড়া :
মুখবন্ধ বয়ামে এটি অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারবেন। চাইলে ফ্রিজে রেখেও প্রয়োজন মতো খাবারে ব্যবহার করা যাবেন। ব্যবহারের আগে পানিতে গুলে নিন।

সূত্র: ইটিসি নিউজ বিডি

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : আয়ান আইটি