দুর্গাপূজা মানেই জমিয়ে আড্ডা, নতুন পোশাক আর মুখরোচক সব খাবার! প্যান্ডেলে ঘোরাঘুরির ফাঁকে কিংবা বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নে পরিবেশন করতে পারেন মজাদার কিছু খাবার। আপনাদের জন্য একসঙ্গে সাজিয়ে দিলাম ৬টি সহজ ও সুস্বাদু রেসিপি।
মুচমুচে ভেজিটেবল চপ
বিট, গাজর, আলু ও মশলার মিশ্রণে তৈরি এই জনপ্রিয় বাঙালি নাস্তা পূজার আড্ডায় দারুণ মানাবে।
উপকরণ:
– আলু ৩টি, সেদ্ধ
– বিট ১টি ও গাজর ১টি, কুচি
– পেঁয়াজ কুচি ১টি
– আদা বাটা ১ চা-চামচ
– ভাজা জিরার গুঁড়া, লবণ ও মরিচ
– ব্রেডক্রাম্ব ও ভাজার তেল
প্রস্তুত প্রণালি:
১. আলু সেদ্ধ করে মেখে নিন। বিট ও গাজর অল্প তেলে মশলা দিয়ে ভেজে নিন।
২. সব উপকরণ মিশিয়ে চপের আকার দিন।
৩. ব্রেডক্রাম্বে গড়িয়ে মাঝারি আঁচে সোনালি ও মুচমুচে করে ভেজে নিন।
পরিবেশন: কাসুন্দি বা টমেটো সসের সঙ্গে।
লুচি ও মশলাদার আলুর দম
অষ্টমী বা নবমীর সকালের খাবারে লুচি-আলুর দম হতে পারে সবার পছন্দের আয়োজন।
উপকরণ:
– ময়দা ২ কাপ
– সেদ্ধ ছোট আলু ৫০০ গ্রাম
– টক দই ৩ টেবিল-চামচ
– আদা বাটা ১ চা-চামচ
– জিরা, ধনে ও গরম মসলার গুঁড়া
– লবণ, হলুদ, মরিচ ও তেল
প্রস্তুত প্রণালি:
১. ময়দায় লবণ ও সামান্য তেল দিয়ে পানি মিশিয়ে নরম খামির তৈরি করুন। ঢেকে ১৫ মিনিট রাখুন।
২. আলুতে আদা, জিরা, হলুদ, মরিচ ও অন্যান্য মশলা দিয়ে কষিয়ে নিন। দই ও অল্প পানি দিয়ে ঝোল তৈরি করুন।
৩. খামির থেকে ছোট লেচি বানিয়ে লুচি বেলে গরম তেলে ফুলিয়ে ভেজে নিন।
পরিবেশন: গরম লুচির সঙ্গে মশলাদার আলুর দম।
মুচমুচে পেঁয়াজি
বিকেলের বৃষ্টি, পূজার আড্ডা কিংবা চায়ের বিরতি—সব সময়েই পেঁয়াজি জমে যায়।
উপকরণ:
– পেঁয়াজ ৩টি, পাতলা করে কাটা
– বেসন ১ কাপ
– চালের গুঁড়া ২ টেবিল-চামচ
– কাঁচামরিচ ২টি
– ধনেপাতা, লবণ ও হলুদ
– সামান্য পানি ও ভাজার তেল
প্রস্তুত প্রণালি:
১. পেঁয়াজের সঙ্গে লবণ মিশিয়ে কয়েক মিনিট রাখুন।
২. বেসন, চালের গুঁড়া, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা ও মশলা মিশিয়ে অল্প পানি দিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন।
৩. ছোট ছোট অংশ গরম তেলে ছেড়ে মাঝারি আঁচে মুচমুচে করে ভাজুন।
পরিবেশন: গরম চা ও টমেটো সসের সঙ্গে।
নারকেল দিয়ে ছোলার ডাল
পূজার ভোগ কিংবা পারিবারিক দুপুরের খাবারে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ছোলার ডাল হতে পারে দারুণ আয়োজন।
উপকরণ:
– ছোলার ডাল ১ কাপ
– নারকেল কুচি আধা কাপ
– আদা বাটা ১ চা-চামচ
– তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ ও জিরা
– হলুদ, লবণ, সামান্য চিনি
– ঘি ১ চা-চামচ
প্রস্তুত প্রণালি:
১. ডাল ধুয়ে নরম হওয়া পর্যন্ত সেদ্ধ করুন।
২. কড়াইয়ে ঘি বা তেল গরম করে গোটা মশলা ও নারকেল কুচি হালকা ভেজে নিন।
৩. আদা বাটা ও গুঁড়া মশলা দিয়ে সেদ্ধ ডাল মিশিয়ে দিন। লবণ ও সামান্য চিনি দিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন।
পরিবেশন: লুচি, পরোটা কিংবা খিচুড়ির সঙ্গে।
ঘরে তৈরি মিষ্টি দই
ভারী খাবারের পর মিষ্টি দই পরিবেশন করলে পূজার ভোজের মিষ্টিমুখও হয়ে যায়।
উপকরণ:
– পূর্ণচর্বিযুক্ত দুধ ১ লিটার
– চিনি ৪–৫ টেবিল-চামচ
– টক দই ২ টেবিল-চামচ, স্টার্টার হিসেবে
প্রস্তুত প্রণালি:
১. দুধ জ্বাল দিয়ে কিছুটা ঘন করুন।
২. আলাদা পাত্রে চিনি হালকা ক্যারামেল করে দুধে মিশিয়ে নিন। এরপর দুধ কুসুম গরম হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
৩. টক দই ভালোভাবে মিশিয়ে পরিষ্কার পাত্রে ঢালুন। ঢেকে উষ্ণ স্থানে ৬–৮ ঘণ্টা বা দই জমা পর্যন্ত রাখুন।
৪. জমে গেলে ফ্রিজে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।
টিপস: দুধ খুব গরম থাকতে টক দই দেবেন না; এতে দই ভালোভাবে জমতে নাও পারে।
নারকেলের নাড়ু
পূজার অতিথি আপ্যায়নে কিংবা প্রসাদের আয়োজনের পাশে নারকেলের নাড়ু সহজ ও জনপ্রিয় মিষ্টি।
উপকরণ:
– কোরানো নারকেল ২ কাপ
– চিনি বা গুড় ৩/৪ কাপ, স্বাদ অনুযায়ী
– এলাচ গুঁড়া সামান্য
– দুধ ২–৩ টেবিল-চামচ, প্রয়োজন হলে
প্রস্তুত প্রণালি:
১. কড়াইয়ে নারকেল ও চিনি বা গুড় মিশিয়ে কম আঁচে নাড়তে থাকুন।
২. মিশ্রণ আঠালো হয়ে কড়াইয়ের পাশ ছাড়তে শুরু করলে এলাচ গুঁড়া দিন।
৩. চুলা থেকে নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা হলে হাতে গোল গোল নাড়ু তৈরি করুন।
টিপস: মিশ্রণ পুরো ঠান্ডা হওয়ার আগে নাড়ু বানালে সহজে আকার দেওয়া যায়।